গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পরই সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সে সময় স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।”

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 August 2025 22:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে। পহেলগাম হামলার (Pahalgam Attack) পর পড়শি দেশে সিঁদুর অভিযান (Operation Sindoor) করেছিল ভারত (India)। ধ্বংস করা হয়েছিল একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি। শুধু তাই নয়, সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Water Treaty) স্থগিত করে দিয়ে পাকিস্তানকে (Pakistan) 'জলে মেরেছে' নয়াদিল্লি। তবে দিনের শেষে মানবতার উদাহরণও রাখল ভারত। জম্মু-কাশ্মীরের সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি (Jammu Kashmir Flood) মোকাবিলার কথা মাথায় রেখে পাকিস্তানকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।
রবিবার ইসলামাবাদে (Islamabad) ভারতীয় হাইকমিশন (High Commission) পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রককে এই সম্পর্কিত তথ্য জানায়। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে এই যোগাযোগ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী হামলা ও সীমান্তে উত্তেজনার আবহে এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
এই প্রথমবার এ ধরনের তথ্য সরাসরি হাই কমিশনের মাধ্যমে পাকিস্তানকে জানানো হল। সাধারণত এ ধরনের বার্তা সিন্ধু জলচুক্তি কমিশনার স্তরে বিনিময় হয়। কিন্তু এ মুহূর্তে জলচুক্তি স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে সেই পথে কোনও তথ্য আদানপ্রদান হয়নি। ভারত থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পাকিস্তান ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পরই সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সে সময় স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।” তার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
এর মাঝে পাকিস্তান একাধিকবার হুমকি বা হুঁশিয়ারি দিলেও জল ছাড়ার আবেদনও করেছিল ভারতকে। কিন্তু তাতে বিশেষ পাত্তা দেয়নি নয়াদিল্লি। তবে এখন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পাকিস্তানকে বন্যা-সংক্রান্ত তথ্য দিল ভারত। কূটনৈতিক মহলের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে ন্যূনতম মানবিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ এক দৃষ্টান্ত। তবে একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট হয়ে গেল যে, সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান বদলাচ্ছে না।
গত সপ্তাহেই এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সিন্ধু জলচুক্তিকে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, “নেহরু দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পাকিস্তানকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন। সংসদে আলোচনা ছাড়াই ওই একতরফা চুক্তি করা হয়েছিল।”
অর্থাৎ, কাশ্মীরের সন্ত্রাস থেকে সীমান্ত রাজনীতির চাপ - সব কিছুর মধ্যেও মানবিক কারণে পাকিস্তানকে সাহায্যের বার্তা দিল ভারত। তবে রাজনৈতিক বার্তা আগে যা ছিল, এখনও তাই রয়েছে।