ওড়িশার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার টপার অশ্বিনী কুমার পান্ডা ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়লেন ভিজিল্যান্সের ফাঁদে। সমাজে ক্ষোভ ও প্রশ্নের ঝড়।

অশ্বিনী কুমার পান্ডা
শেষ আপডেট: 13 September 2025 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্লাসের ফার্স্ট বয় শুধু স্কুলের মধ্যে অতিরিক্ত অ্যাটেনশন পায় তা নয়, শহর-মফস্বলে পাড়ার মানুষও তাদের স্নেহ করে, সমীহ করে চলে। বাড়িতে বা পরিবারে ভালো মন্দটা সবার আগে তাকেই এগিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সমাজ যাঁর দিকে তাকিয়ে থাকে, তাঁর চরম নৈতিক অবক্ষয় হলে কী বলা যাবে? শিক্ষা, বড় করে তোলা, সমাজব্যবস্থা সবটাই কি প্রশ্নের মুখে পড়ে যায় না!
এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। ওড়িশায় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার টপার (Civil service exam topper) অশ্বিনী কুমার পান্ডাকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে ভিজিল্যান্স দফতর। তিনি সাম্বলপুর জেলার বামরা ব্লকে তহসিলদারের দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন।
ভিজিল্যান্স দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমিতে ভিটে জমিতে রূপান্তর করার জন্য আবেদন করেছিলেন এক ব্যক্তি। সেই আবেদন ঘিরেই শুরু হয় ঘুষের খেলা। প্রথমে পান্ডা নাকি ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। আবেদনকারী এত টাকা দিতে না চাইলে তা কমিয়ে ১৫ হাজারে নামান তিনি। অভিযোগকারীর কথায়, ঘুষ না দিলে জমি রূপান্তরের আবেদন অনুমোদন করবেন না বলে হুমকি দেন ওই আধিকারিক।
অভিযোগকারী সরাসরি ভিজিল্যান্স দফতরের দ্বারস্থ হন। দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার একটি ফাঁদ পাতা হয়। ঠিক সময়ে টাকা দেওয়ার মুহূর্তে পান্ডাকে তার অফিস থেকেই পাকড়াও করা হয়। অভিযোগকারীর ড্রাইভারের হাত দিয়ে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় হাতে-নাতে ধরা পড়েন তিনি। উদ্ধার হয় পুরো ঘুষের অঙ্ক।
ঘটনার পরই ভিজিল্যান্সের একটি দল ভুবনেশ্বরের তার বাড়ি এবং সরকারি আবাসে একযোগে তল্লাশি চালায়। তার ভুবনেশ্বরের বাড়ি থেকে নগদ ৪.৭৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। পাশাপাশি, পান্ডার ড্রাইভার প্রবীণ কুমারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দুর্নীতি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
৩২ বছরের অশ্বিনী কুমার পান্ডা পেশায় একজন যান্ত্রিক প্রকৌশলী। তিনি ২০১৯ সালে ওড়িশা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হয়ে নজর কাড়েন। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি ট্রেনিং রিজার্ভ অফিসার (TRO) হিসেবে প্রশাসনে যোগ দেন। এরপর ময়ূরভঞ্জ জেলার শামখুন্তায় তহসিলদারের দায়িত্বে ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে আসেন বামরায়।
একজন সিভিল সার্ভিস টপারের এমন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের সৎ ভাবমূর্তি যেভাবে কলঙ্কিত হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
বর্তমানে পান্ডার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ভিজিল্যান্স দফতর। তাঁর বিরুদ্ধে আরও সম্পত্তি ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।