নিখিলের দাবি, কয়েক মিনিট পর আবার ফোন আসে। সেই সময় ফোনের ওপার থেকে কাজলের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর অঙ্কুর জানায়, কাজল মারা গেছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে আসতে বলে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা মোহন গার্ডেনের বাড়িতে পৌঁছন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 January 2026 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি পুলিশের SWAT কমান্ডোর নৃশংস হত্যাকাণ্ড (Delhi Police SWAT Commando Death) ঘিরে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো বিবরণ। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর হাতে খুন হওয়া ২৭ বছরের কাজল চৌধুরীর মৃত্যুর আগে করা একটি ফোনকল এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, পণের দাবিকে (Dowry Case) কেন্দ্র করেই এই খুন।
২২ জানুয়ারি রাতের সেই ঘটনার কথা মনে করে এখনও ভেঙে পড়ছেন কাজলের ভাই নিখিল। তিনি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মরত কনস্টেবল। নিখিল জানান, ওই রাতে প্রথমে তাঁকে ফোন করেন জামাই অঙ্কুর চৌধুরী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কেরানি অঙ্কুর তখন দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ছিলেন। ফোনেই নিখিলকে হুমকি দিয়ে অঙ্কুর বলেন, ''কল রেকর্ড করো। আমি কাজলকে খুন করছি। তবে পুলিশ তাঁর কিছুই করতে পারবে না।''
নিখিলের দাবি, কয়েক মিনিট পর আবার ফোন আসে। সেই সময় ফোনের ওপার থেকে কাজলের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর অঙ্কুর জানায়, কাজল মারা গেছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে আসতে বলে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা মোহন গার্ডেনের বাড়িতে পৌঁছন। ততক্ষণে গুরুতর আহত অবস্থায় কাজলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি রাত প্রায় ১০টার সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিবাদ (Family Feud) হয়। সেই সময় অঙ্কুর প্রথমে কাজলের মাথা দরজার ঠুকে দেন, পরে ভারী ডাম্বেল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ। ফরেন্সিক পরীক্ষায় বাড়ির দরজার ফ্রেম ও ডাম্বেলে রক্তের দাগ মিলেছে।
প্রথমে কাজলকে মোহন গার্ডেনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে গাজিয়াবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। টানা কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৭ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এই হত্যাকাণ্ড কোনও মুহূর্তের রাগের ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের পণ-নির্যাতনের পরিণতি। কাজলের মা জানান, কলেজে পড়ার সময় থেকেই কাজল ও অঙ্কুরের সম্পর্ক ছিল এবং পরে তাঁদের প্রেমের বিয়ে হয়। বিয়েতে সাধ্যের বাইরে গিয়ে বহু দামি উপহার দেওয়া হয়েছিল - বুলেট মোটরবাইক, গয়না ও নগদ টাকা। তবুও অঙ্কুরের চাহিদা থামেনি।
পরিবারের অভিযোগ, অঙ্কুর একটি গাড়ির দাবিও করেছিলেন, যা কাজল নিজের টাকায় কিনে দেন। বিয়েতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। এর আগেও কাজলের কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন অঙ্কুর। তবুও হুমকি ও নির্যাতন চলতেই থাকে।
দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই অঙ্কুরের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে। তাঁকে গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফোনকল, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং পারিবারিক অভিযোগ - সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।