নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার সময় কাজলের ভাই নিখিল যিনি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কনস্টেবল পদে রয়েছেন, তাঁকে ফোন করেছিলেন অঙ্কুর। নিখিলের দাবি, মারধরের মধ্যেই অঙ্কুর তাঁকে বলেন, তিনি কাজলকে খুন করছেন এবং পুলিশও কিছু করতে পারবে না!

নিহত SWAT কমান্ডো
শেষ আপডেট: 30 January 2026 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পারিবারিক হিংসা। দিল্লিতে (New Delhi) প্রাণ হারালেন ২৭ বছরের দিল্লি পুলিশ SWAT কমান্ডো (SWAT Commando Officer) কাজল চৌধুরী। অভিযোগ, স্বামী অঙ্কুর চৌধুরী তাঁকে মারধর করার পর ডাম্বেল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন (SWAT Commando Death)। গুরুতর জখম অবস্থায় কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৭ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন কাজল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে ২২ জানুয়ারি রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে, পশ্চিম দিল্লির মোহন গার্ডেন এক্সটেনশনে ভাড়া বাড়িতে। অঙ্কুর, যিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কেরানি পদে কর্মরত এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে পোস্টেড, সেই রাতেই কাজলের উপর চড়াও হন। অভিযোগ অনুযায়ী, পিছন দিক থেকে ভারী ডাম্বেল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় কাজলকে। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্নও মিলেছে।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার সময় কাজলের ভাই নিখিল যিনি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কনস্টেবল পদে রয়েছেন, তাঁকে ফোন করেছিলেন অঙ্কুর। নিখিলের দাবি, মারধরের মধ্যেই অঙ্কুর তাঁকে বলেন, তিনি কাজলকে খুন করছেন এবং পুলিশও কিছু করতে পারবে না! ফোনে বোনের আর্তনাদ শোনার পর আচমকাই লাইন কেটে যায়। কয়েক মিনিট পরে ফের ফোন করে অঙ্কুর জানায়, কাজল মারা গেছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে আসতে হবে।
কাজলকে প্রথমে গাজিয়াবাদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর মাথায় মারাত্মক আঘাত ছিল এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক। শেষ পর্যন্ত ২৭ জানুয়ারি সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুর পরই অঙ্কুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা রুজু হয়েছে খুনের ধারায়।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে কাজলের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলছিল। কাজলের বাবা রাকেশ চৌধুরীর দাবি, বিয়েতে বুলেট বাইক, সোনা ও নগদ টাকা দেওয়া হলেও তাতে সন্তুষ্ট ছিল না শ্বশুরবাড়ি। আরও দামি গাড়ির দাবি করা হয়। এমনকি গর্ভাবস্থাতেও কাজলকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
নিখিল আরও জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগেও কাজলকে চড় মারেন অঙ্কুর। সে সময় ক্ষমা চেয়ে আর এমন করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্যাতন বন্ধ হয়নি। অভিযোগ, কর্মরত থাকা সত্ত্বেও কাজলকে ঘরের সব কাজ করতে বাধ্য করা হত।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে কাজল ও অঙ্কুরের বিয়ে হয়। কলেজে পড়ার সময় তাঁদের পরিচয়। পরে পারিবারিক অশান্তির কারণে হরিয়ানার গণৌর ছেড়ে দিল্লিতে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। সেখানেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি।
এই দম্পতির দেড় বছরের ছেলেও রয়েছে, যে বর্তমানে মামাবাড়িতে থাকে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত হেফাজতেই রয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।