দু’জনের বিয়ের জন্য রাজস্থান হাইকোর্ট ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল মঞ্জুর করেছে। আদালতের অনুমতিতেই আজ তাঁদের বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 January 2026 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে আলাপ, সেখান থেকেই প্রেম, আর সেই সম্পর্কই এবার পরিণতি পাচ্ছে বিয়েতে (Jail Marriage)! রাজস্থানের আলোয়ারে (Rajasthan Alwar) আজ বিয়ে করছেন যারা, তারা দু’জনেই একাধিক খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত। ঘটনাটি যেন সিনেমার চিত্রনাট্য, কিন্তু বাস্তবেই ঘটছে রাজস্থানের বড়োদামেভ এলাকায়।
টিন্ডারে আলাপ হওয়া এক যুবককে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা এবং পাঁচটি খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হনুমান প্রসাদ - এই দু’জনের বিয়ের জন্য রাজস্থান হাইকোর্ট ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল (Parols) মঞ্জুর করেছে। আদালতের অনুমতিতেই আজ তাঁদের বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে।
প্রিয়া শেঠ (Priya Seth) পেশায় মডেল ছিলেন। ২০১৮ সালের একটি খুনের মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। বর্তমানে তিনি সঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা কাটছেন। সেখানেই প্রায় ছয় মাস আগে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় হনুমান প্রসাদের (Hanuman Prasad)। জেলজীবনের মধ্যেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে।
প্রিয়ার অতীত
ঘটনা ২০১৮ সালের। টিন্ডারের মাধ্যমে দুষ্যন্ত শর্মা নামে এক যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন প্রিয়া। পরিকল্পনা ছিল অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়। বাজাজ নগরের একটি ফ্ল্যাটে দুষ্যন্তকে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর তাঁর বাবার কাছে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুষ্যন্তের পরিবার ৩ লক্ষ টাকা জোগাড় করে পাঠায়। কিন্তু ধরা পড়ার আশঙ্কায় প্রিয়া ও তাঁর তৎকালীন প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরা সিদ্ধান্ত নেন, দুষ্যন্তকে ছেড়ে দিলে বিপদ বাড়বে।
এরপর কামরা ও তার বন্ধুর সাহায্যে দুষ্যন্তকে খুন করা হয়। দেহ শনাক্ত না-হওয়ার জন্য মুখে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়। প্রমাণ লোপাটের জন্য ফ্ল্যাট পরিষ্কার করা হয় এবং দেহ একটি স্যুটকেসে ভরে আমের পাহাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিনই দেহ উদ্ধার হয় এবং পরে তিনজনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ।
হনুমান কী করেছেন
তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে আলোয়ারের অন্যতম নৃশংস হত্যাকাণ্ডে। ২০১৭ সালেই তাঁর প্রেমিকা সন্তোষ - যিনি হনুমানের থেকে প্রায় দশ বছর বড়, নিজের স্বামী ও সন্তানদের খুনের জন্য হনুমানকে ডেকে পাঠান। পশু কাটার ছুরি দিয়ে মহিলার স্বামীকে খুন করা হয়। কিন্তু সন্তোষের তিন সন্তান ও এক আত্মীয় সেই দৃশ্য দেখে ফেলায়, তাদেরও খুন করার নির্দেশ দেন তিনি। সেই রাতে একসঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যু রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন ফেলেছিল।