বাজেট ২০২৬–এ ব্যক্তিগত আয়করে অতিরিক্ত কোনও নতুন ছাড় না দিলেও শাস্তির মাত্রা কমিয়ে জরিমানার নয়া কাঠামো ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বিদেশি সম্পদ ঘোষণায় প্রসিকিউশন শিথিল করে করদাতাদের জন্য কিছু স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে।

নির্মলা সীতারমন
শেষ আপডেট: 1 February 2026 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় বাজেটে (Budget 2026) ব্যক্তিগত আয়করে কোনও নতুন ছাড় ঘোষণা করল না সরকার। তবে আয়কর আইনে বড়সড় সংস্কারের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। নির্মলা বাজেটে জানিয়েছেন, করদাতাদের—বিশেষত ছোট ও মাঝারি করদাতাদের—জন্য প্রসিকিউশন বা ফৌজদারি মামলার কাঠামো সহজ করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য কর-ব্যবস্থাকে সহজ করা এবং ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলা নতুন আয়কর আইনের আগে বর্তমান ব্যবস্থার জট কমানো।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ছোটখাটো অনিয়মের জন্য ফৌজদারি শাস্তির পথ থেকে সরে আসছে সরকার। হিসাবের বই পেশ না করা বা কিছু নির্দিষ্ট ছোট অপরাধে আর ফৌজদারি মামলা হবে না—তার বদলে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে করদাতাদের অকারণ হয়রানি কমবে এবং কর প্রশাসনের উপর চাপও হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এককালীন ৬ মাসের বিদেশি সম্পদ ঘোষণার সুযোগ। ছাত্রছাত্রী, NRI, তরুণ পেশাজীবী ও ছোট করদাতাদের কথা মাথায় রেখে এই বিশেষ উইন্ডো চালু করা হচ্ছে, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে বিদেশে থাকা সম্পদ বা আয় ঘোষণায় ভুল হয়ে গেলে তা সংশোধনের সুযোগ মেলে।
ক্যাটাগরি A: যাঁরা বিদেশে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদ গোপন করেছিলেন, তাঁরা মোট ৬০ শতাংশ কর ও জরিমানা দিয়ে তা ঘোষণা করতে পারবেন।
ক্যাটাগরি B: যাঁদের আয় ঘোষিত ছিল কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদেশি সম্পদ উল্লেখ করেননি, ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ক্ষেত্রে মাত্র ১ লক্ষ টাকা ফি দিয়ে বিষয়টি নিয়মে আনতে পারবেন।
দু’ক্ষেত্রেই প্রসিকিউশন ও অতিরিক্ত শাস্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি মিলবে—যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
কর ফাইলিংয়ের সময়সূচিতেও আনা হচ্ছে নমনীয়তা। ITR-1 ও ITR-2 জমার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই আগের মতোই থাকছে, তবে নন-অডিট ব্যবসা ও ট্রাস্টের জন্য সময় বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হচ্ছে। রিটার্ন সংশোধনের সুযোগ মিলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত, অল্প ফি দিয়ে। এমনকি অ্যাসেসমেন্ট শুরু হওয়ার পরেও অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিয়ে ‘আপডেটেড রিটার্ন’ জমা দেওয়া যাবে।
এছাড়া কর সংক্রান্ত মামলায় স্বস্তি দিতে ডিমান্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে প্রি-ডিপোজিট ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ** করা হচ্ছে। নন-রেসিডেন্টদের সম্পত্তি বিক্রিতে TDS নিয়ম সহজ করা এবং CDSL–NSDL-এর মাধ্যমে Form 15G/15H গ্রহণের ব্যবস্থাও চালু হবে।
সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬ আয়কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, মানবিক ও পূর্বানুমেয় করার দিকেই এক বড় পদক্ষেপ—এমনটাই বার্তা দিলেন অর্থমন্ত্রী।