রাহুল গান্ধী সম্প্রতি পাকিস্তানকে জানিয়ে ভারতের প্রত্যাঘাতের কারণ নিয়ে বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

রাহুল গান্ধী এদিনই জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চে ভারত-পাক সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন।
শেষ আপডেট: 24 May 2025 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাকিস্তানের চলতি উত্তেজনার পরিবেশে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ঠেসের জবাবে গান্ধী পরিবারের পাকিস্তান-প্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিজেপি। শনিবার একদিকে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য ও অন্যদিকে সাংসদ নিশিকান্ত দুবে প্রাক্তন কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ও ইন্দিরা গান্ধীর বিদেশনীতি ও রণনীতি নিয়ে এক তিরে বেঁধেন রাহুল গান্ধীকে। প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধী এদিনই জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চে ভারত-পাক সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন।
রাহুল গান্ধী সম্প্রতি পাকিস্তানকে জানিয়ে ভারতের প্রত্যাঘাতের কারণ নিয়ে বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম না করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কার নির্দেশে এই কাজ হয়েছে এবং এটা এক ধরনের অপরাধ। তিনি সরকারের কাছে আরও জানতে চেয়েছিলেন সংঘর্ষে ভারতীয় বায়ুসেনার কটা যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল, জানাক সরকার।
এদিন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এক এক্সবার্তায় লিখেছেন, ‘অপারেশন ব্রাসট্যাক্স’-এর ‘রিয়্যালিটি চেক’ করে দেখিয়েছেন। অপারেশন ব্রাসট্যাক্স হয়েছিল রাহুল গান্ধীর বাবা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সময়। যা ছিল রাজস্থান-পাকিস্তান সীমান্তে দেশের সর্ববৃহৎ সামরিক মহড়া। প্রায় ৫ লক্ষ সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। এবং দুই দেশ একে অপরকে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছিল।
বিজেপি সেই সেনা মহড়াকে রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে সরে আসা বলে কটাক্ষ করে রাহুলকে। ১৯৮৬ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় চতুর্থ ভারত-পাক যুদ্ধের মুখোমুখি হয়ে গিয়েছিল দুই দেশ। মালব্য লিখেছেন, রাহুল গান্ধী যেমন অপারেশন সিঁদুর নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন। তাই তাঁর জ্ঞাতার্থে এই বাস্তব ছবি তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁর পরিবারের লোকেরাই কীভাবে সামরিক সমস্যা থেকে পিছু হটেছিলেন তা ঘুরে দেখা যাক। তিনি লিখেছেন, অপারেশন ব্রাসট্যাক্স ছিল দেশের সর্ববৃহৎ সামরিক মহড়া। কিন্তু এটা কাজে লাগেনি, যার মূলে ছিল রাজনৈতিক দুর্বলতা।
মালব্য আরও বলেছেন, এই মহড়া কোনও গোপন ব্যাপারও ছিল না। ভারত পাকিস্তানকে বলেকয়েই এই মহড়া শুরু করেছিল। রাজীব গান্ধী নিজে পাক প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ জুনেজোকে বেঙ্গালুরর সার্ক সম্মেলনে কথা দিয়েছিলেন, এটা একটা মহড়া মাত্র। সেই কথা দেওয়ার পরেও পাঞ্জাব সীমান্তে পাকিস্তানও শতদ্রু নদী বরাবর বিশাল ফৌজ মোতায়েন করে। আচমকা ২৩ জানুয়ারি রাজীব গান্ধী জানিয়ে দেন যে, কোনও আক্রমণ নয়, কূটনৈতিক পথে সমস্যা মেটানো হবে। কেন এই ভোলবদল করেন রাজীব, প্রশ্ন তুলেছেন মালব্য।
বিজেপি নেতার দাবি, মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক পাক সেনাপ্রধান জিয়া-উল-হকের অনুরোধে রাজীব গান্ধীকে ফোন করেন। আর তাতেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাজীব গান্ধী শান্তির দূত ইমেজ বজায় রাখতে তা মেনেও নেন। এবং ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন রাজীব গান্ধী। মালব্যর আরও দাবি, রাজীব গান্ধী এরপর তৎকালীন সেনাপ্রধান সুন্দরজি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দেন। বলেন, তাঁকে অন্ধকারে রেখে সবকিছু হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজীব গান্ধী ভারতে ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে জিয়া-উল-হককে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।
এদিকে, বিজেপির এমপি নিশিকান্ত দুবে এদিনই ১৯৬৮ সালের চুক্তি নিয়ে লৌহমানবী ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। ওই বছর পাকিস্তানের সঙ্গে এক চুক্তিতে ইসলামাবাদের হাতে গুজরাতের কচ্ছের রনের ৮২৮ বর্গকিমি এলাকা ছেড়ে দিয়েছিলেন ইন্দিরা। যুদ্ধে জেতার পরেও ইন্দিরা সেই চুক্তিতে সই করেছিলেন। আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করে ইন্দিরার মতো নেত্রীও ৬৫ সালে পাকিস্তানকে হারানোর পর দেশের ভূখণ্ড তুলে দিয়েছিলেন তাদের হাতে। কংগ্রেসের হাত সবসময় পাকিস্তানের পক্ষে।