শিবরাত্রিতে নন-ভেজ পরিবেশন নিয়ে SFI ও ABVP-র সংঘর্ষে জড়িত থাকায় বহিষ্কৃত এক বাংলাদেশি পিএইচডি ছাত্র।

সাউথ এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়
শেষ আপডেট: 19 July 2025 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিবরাত্রিতে (Shivratri) আমিষ খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগে এক বাংলাদেশি পিএইচডি ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে সাউথ এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় (South Asian University) থেকে। একই সঙ্গে মেস সেক্রেটারির ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিতর্ক ঘনিয়েছে, ধর্মীয় সহনশীলতা ও শিক্ষাঙ্গনে মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব নিয়ে।
জানা গেছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রির দিন দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায় আমিষ খাবার পরিবেশন নিয়ে। এই ঘটনার জেরে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টোরিয়াল কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে জানা গেছে, ওই সংঘর্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল পিএইচডি গবেষক সুদীপ্ত দাসের। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র আধিকারিক বলেন, 'বিস্তারিত তদন্তের পর প্রমাণিত হয়েছে যে সুদীপ্ত দাস একাধিকবার শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন। তাই তাঁকে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কোর্সেও তিনি আবেদন করতে পারবেন না। তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
প্রসঙ্গত, সুদীপ্ত দাস এর আগেও ২০২২ সালে 'উপদ্রবমূলক কার্যকলাপের' জন্য সাসপেন্ড হয়েছিলেন। এবার তার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কড়াকড়ি স্পষ্ট।
এই ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিবরাত্রির মতো উপবাস দিবসে মেসে নন-ভেজ পরিবেশন। দুই ছাত্র সংগঠন—স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI) এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)—পরস্পরের বিরুদ্ধে হিংসা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলে।
SFI-র দাবি, ABVP নিজেদের খাদ্যাভ্যাস অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী। অন্যদিকে, ABVP বলে, শিবরাত্রির মতো ‘উপবাসের দিনে’ নন-ভেজ খাওয়ার ব্যবস্থা করা ধর্মীয় সহাবস্থানের বিরুদ্ধে, এবং এটি ছিল ‘অসংবেদনশীল’ পদক্ষেপ।
ঘটনার সময় পুলিশকে ফোন করা হলেও তারা পৌঁছে কোনও সরাসরি হিংসার চিহ্ন পায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ই পরে বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে মেটায়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে বিতর্ক—বিশ্ববিদ্যালয় কি কট্টরপন্থার দিকে এগোচ্ছে, নাকি ছাত্র রাজনীতি দিন দিন আরও অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে? নাকি খাদ্যাভ্যাসও এখন রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে?