ভুয়ো আইডি ব্যবহার করে জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন অনিল আম্বানি। কী কথা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে, সামনে এল চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট।

এপস্টিন-অনিল আম্বানি
শেষ আপডেট: 5 April 2026 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াইট হাউসের ‘ইনসাইডার’ পরিচয়ে ঘনিষ্ঠতা, তারপর পরামর্শ—ভারতীয় শিল্পপতি অনিল আম্বানির (Anil Ambani) সঙ্গে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত জেফ্রি এপস্টিন (Jeffrey Epstein)-এর সম্পর্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল নিউ ইয়র্ক টাইমস (The New York Times)।
মার্কিন বিচার বিভাগ (US Department of Justice) প্রকাশিত বার্তা আদানপ্রদানের ভিত্তিতে তৈরি রিপোর্টে দাবি, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে শতাধিক বার যোগাযোগ হয়েছিল দু’জনের মধ্যে। তখনই ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ভারতের (India) জায়গা কোথায় হতে পারে —তা জানতে আগ্রহী ছিলেন আম্বানি। সেই সূত্রে এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ।
একটি বার্তায় আম্বানি লিখেছিলেন, “হোয়াইট হাউস (White House)-এর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা (Defense Cooperation) নিয়ে আপনার পরামর্শ দরকার।” উত্তরে এপস্টিন আশ্বাস দেন, তিনি ‘ভিতরের’ তথ্য জোগাড় করে দেবেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু তথ্য এপস্টিন আগে থেকেই জানাতেন, যা পরে সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।
২০১৭ সালের মার্চে আম্বানি জানতে চান, ডেভিড পেট্রেয়াস (David Petraeus) কি ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত (US Ambassador to India) হবেন? এপস্টিন উত্তর দেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন। পরে জানান, পেট্রেয়াস এই দৌড়ে এগিয়ে নেই। শেষমেশ সেই পদে নিযুক্ত হন কেনেথ আই জাস্টার (Kenneth I Juster)।
রিপোর্ট বলছে, এপস্টিন আম্বানিকে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্টিফেন ব্যানন (Stephen K Bannon) এবং টমাস ব্যারাক জুনিয়র (Thomas J Barrack Jr)। যদিও এঁদের কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
এই যোগাযোগের সময় আম্বানি কোনও যৌন অপরাধের অভিযোগে জড়িত নন বলে স্পষ্ট করা হয়েছে রিপোর্টে। তবে উল্লেখযোগ্য, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের দায়ে সাজা ভোগের পরও এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন তিনি। ফোন, সিগন্যাল (Signal) ও টেলিগ্রাম (Telegram)-এর মতো এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে কথা হত, যেখানে আম্বানির ইউজারনেম ছিল ‘Armani A’।
২০১৯ সালে ব্যবসায়িক সংকটের সময়েও এপস্টিন আম্বানিকে মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ২০ এপ্রিল তিনি লেখেন, “আমার কোনও টাকার প্রয়োজন নেই।” তার কিছুদিন পর আম্বানির একটি মেল সামনে এসেছে। যাতে লেখা, “লেনদেন সম্পন্ন। দেখা করে কফি খাব।”
২৩ মে ২০১৯, ম্যানহাটেন (Manhattan) এপস্টিনের বাড়িতে দেখা হয় দু’জনের। এর তিন দিন পরই নাবালিকা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি।