এপস্টিনের সঙ্গে নাম জড়ানো নিয়ে বিতর্কের মাঝে বড় স্বস্তি পেলেন হিমায়নী পুরী। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে বিতর্কিত সব অনলাইন কনটেন্ট দ্রুত সরানোর নির্দেশ।

হরদীপ সিং পুরী ও তাঁর মেয়ে
শেষ আপডেট: 17 March 2026 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনলাইন কনটেন্টে নাম জড়ানোর ঘটনায় বড় স্বস্তি পেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মেয়ে। দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছে, হরদীপ সিং পুরীর মেয়ে হিমায়নী পুরী (Himayani Puri)-কে ঘিরে বিতর্কিত সমস্ত অনলাইন কনটেন্ট (Impugned Content) অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্মগুলিকে (Intermediary Platforms) সব কন্টেন্ট খুঁজে মুছে ফেলতে হবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri)-র মেয়ে হিমায়নী পুরী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে যৌন কেলেঙ্কারিতে যুক্ত জেফ্রি এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) সঙ্গে যুক্ত করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলার শুনানিতে আদালত প্রাথমিকভাবে (Prima Facie) মনে করেছে, আবেদনকারীর পক্ষেই যুক্তি রয়েছে। একইসঙ্গে ‘ব্যালান্স অব কনভিনিয়েন্স’ (Balance of Convenience) তাঁর পক্ষেই যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ বেঞ্চের। আদালত জানিয়েছে, হিমায়নী যে কনটেন্টগুলিকে চিহ্নিত করেছেন, সেগুলি অবিলম্বে সরাতে হবে।
তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, আপাতত এই নির্দেশ ভারতের ভৌগোলিক সীমানার (Indian Jurisdiction) মধ্যেই প্রযোজ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নোটিস (Summons) জারি করা হয়েছে। তাঁদের দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হবে।
হিমায়নীর আইনজীবীর দাবি, এই অভিযোগগুলি একটি ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’ (Orchestrated Attack), যার লক্ষ্য তাঁর সুনাম নষ্ট করা। তাঁর কথায়, “একজন দোষী অপরাধীর সঙ্গে মিথ্যা যোগসূত্র দেখানো হচ্ছে। এর কোনও ভিত্তি নেই। তিনি মন্ত্রীর মেয়ে বলেই রাজনৈতিক বিদ্বেষ (Political Malice) থেকে এই আক্রমণ হচ্ছে।”
এদিকে, আদালতে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী অরবিন্দ দাতার (Arvind Datar) জানান, গ্লোবাল টেকডাউন (Global Takedown) নিয়ে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। ফলে আপাতত শুধুমাত্র ভারতের মধ্যেই কনটেন্ট সরানো সম্ভব।
অন্যদিকে, মেটা (Meta)-র পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়, কোনও ভারতীয় আদালত কি বিশ্বজুড়ে কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দিতে পারে? পাশাপাশি কিছু সাংবাদিকের আইনজীবীরা জানান, এপস্টিন সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে তদন্ত হচ্ছে এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা (Journalistic Freedom) রক্ষা করা জরুরি।
সবদিক বিবেচনা করে আপাতত অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিলেও, গ্লোবাল স্তরে কনটেন্ট অপসারণের প্রশ্নটি খোলা রেখেছে আদালত। পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বেঞ্চ।