জেফ্রি এপস্টিন তদন্তে মার্কিন কংগ্রেসের কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 28 February 2026 09:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেফ্রি এপস্টিন (Jeffrey Epstein) নামটাই যেন বিশ্বরাজনীতিতে একের পর এক চমক ছড়িয়ে দিচ্ছে। যাঁদের একসময় শ্রদ্ধার চোখে দেখা হত, এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁদের অনেককেই নতুন করে মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। এই মামলায় শুক্রবার আমেরিকান কংগ্রেসের একটি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন (Bill Clinton)। এপস্টিন ফাইলে বারবার উঠে এসেছে তাঁর নাম। নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০-এর শুরুর সময় পর্যন্ত এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত সম্পর্ক ছিল। এমনকি এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমান ‘ললিতা এক্সপ্রেস’-এ (Lolita Express) তিনি অন্তত ১৬-১৭ বার সফর করেছেন বলেও জানা গেছে। ফলে ক্লিনটনের বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কী জানালেন ক্লিনটন?
শুনানিটি হয় সম্পূর্ণ বন্ধ ঘরে। তবে তাঁর লিখিত প্রারম্ভিক বিবৃতি সংবাদসংস্থা রয়টার্সের হাতে পৌঁছেছে। সেখানে ক্লিনটন বলেছেন, “আমি কী করেছি আর কী করিনি, তা আমি জানি। আমি কিছুই দেখিনি এবং আমি কোনও ভুল করিনি।” তাঁর দাবি, এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। যদি জানতেন, তবে কখনওই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন না।
২০০০-এর দশকের শুরুতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর একাধিকবার এপস্টিনের ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ করেছিলেন ক্লিনটন—এ কথা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য, এপস্টিনের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ্যে আসার পর সেই সম্পর্কের জন্য তিনি অনুতপ্ত। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথিতে কয়েকজন মহিলার সঙ্গে তাঁর ছবিও সামনে এসেছে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
বর্তমানে যে কমিটি তদন্ত করছে, তা মূলত রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ক্লিনটনকে ঘিরে এই চাপ সৃষ্টির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁদের মতে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে সম্ভাব্য বিতর্ক আড়াল করতেই এই উদ্যোগ। ক্লিনটনের আগের দিনই সাক্ষ্য দেন তাঁর স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনিও এপস্টিনের সঙ্গে কোনও পরিচয় থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।