আলি লরিজানির নতুন দাবি ৯/১১-র স্মৃতি আবারও সামনে এনে দিয়েছে। তার অভিযোগ সত্য কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আরব দুনিয়া ও আমেরিকার মধ্যে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।

এপস্টিন চক্র নিয়ে আশঙ্কা ইরানের
শেষ আপডেট: 15 March 2026 20:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে (Middle East Tension) এবার আরও এক আশঙ্কা প্রকাশ করল ইরান। জেফরিন এপস্টিনকে (Jeffrey Epstein) কেন্দ্র করে এপস্টিন চক্রের অবশিষ্ট সদস্যরা নাকি এবার ৯/১১-র ধাঁচে ভয়াবহ হামলার (9/11 attack) ছক কষছে (Epstein network plot), আর তার দায়ও চাপাতে চায় তেহরানের (Tehran) ঘাড়ে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লরিজানি (Ali Larijani) সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, 'এপস্টিনের নেটওয়ার্কের অবশিষ্ট সদস্যরা ৯/১১-র মতো একটি ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় ইরানের উপর চালানোর চক্রান্ত করছে- একথা আমি শুনেছি।' তাঁর এই আশঙ্কাই ইঙ্গিত করছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শক্তিশালী লবি আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বাড়াতে একটি বড়সড় হামলার ছক আঁকছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবের স্পষ্ট বার্তা, 'ইরান সন্ত্রাসবাদকে ঘৃণা করে। তারা কখনওই আমেরিকান মানুষদের শত্রু হিসেবে দেখে না।' তাঁর কথায়,“ইরান মূলত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরোধী। আমেরিকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের কোনও যুদ্ধ নেই।” তাঁর বক্তব্য থেকে অনুমান, ইরান চাইছে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক স্তরে ভুল ব্যাখ্যা বা উত্তেজনা না বাড়ুক।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৩ হাজার নিরীহ মানুষ। আল-কায়েদা (Al-Qaeda) সন্ত্রাসীরা চারটি মার্কিন যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে আত্মঘাতী হামলা চালায়। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুটি টাওয়ারই ধসে পড়ে।
আরেকটি বিমান আঘাত হানে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনে (Pentagon)। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি অঞ্চলে ভেঙে পড়ে, যখন যাত্রীরা সন্ত্রাসীদের থামানোর চেষ্টা করছিলেন। সেদিনের মর্মান্তিক হামলায় বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের আশপাশের বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আলি লরিজানির নতুন দাবি ৯/১১-র স্মৃতি (9/11 Attack) আবারও সামনে এনে দিয়েছে। তার অভিযোগ সত্য কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আরব দুনিয়া ও আমেরিকার মধ্যে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
ইরান সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এমন মন্তব্য আসায় জল্পনা তৈরি হয়েছে, তারা কি কোনও গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে, নাকি এটি মার্কিন রাজনৈতিক লবির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল? এ বিষয়ে এখনও কোনও পাওয়া যায়নি।
ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তার এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। আমেরিকা ও ইজরায়েল (Israel) একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে (Iran Israel US Strikes)। একই সঙ্গে ইজরায়েল লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লা গোষ্ঠীর (Hezbollah) বিরুদ্ধেও আক্রমণ বাড়িয়েছে। জবাবে ইরান ইজরায়েলের দিকে একাধিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং ইরাক ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দায়ও স্বীকার করেছে। ফলে পুরো পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সামরিক অস্থিরতা আরও বাড়ছে।