ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুদ্ধ (Iran Israel US conflict) সম্পূর্ণভাবে শেষ করার লক্ষ্যে যদি কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে তা স্বাগত জানাবে ইরান।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
শেষ আপডেট: 15 March 2026 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় টানা সংঘাতের আবহে যুদ্ধ থামানোর ইঙ্গিত দিল তেহরান (Iran end war initiative)। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুদ্ধ (Iran Israel US conflict) সম্পূর্ণভাবে শেষ করার লক্ষ্যে যদি কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে তা স্বাগত জানাবে ইরান।
রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃত করে এই তথ্য প্রকাশ করে রয়টার্স। সেখানে আরাঘচির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “যে কোনও উদ্যোগ যদি যুদ্ধকে সম্পূর্ণভাবে অবসানের দিকে নিয়ে যায়, তাহলে তেহরান তা স্বাগত জানাবে।” এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পা দিয়েছে। একই দিনে আবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা আরও তীব্র করার হুমকিও দিয়েছে তেহরান।
এর আগেই ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রভাবশালী শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps) ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছে।
আইআরজিসির ওয়েবসাইট Sepah News–এ প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, “যদি এই শিশু-হত্যাকারী অপরাধী জীবিত থাকে, তাহলে আমরা তাকে খুঁজে বের করে পূর্ণ শক্তিতে হত্যা করব।” এই মন্তব্যেই সরাসরি নিশানা করা হয় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে।
ট্রাম্পের বার্তা
এদিকে শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC News–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরান একটি চুক্তিতে আসতে চাইছে। কিন্তু আমি এখনই সেই তাতে রাজি নই, কারণ শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ঠিকঠাক নয়।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, যুদ্ধবিরতির জন্য যে কোনও সম্ভাব্য সমঝোতার শর্ত (Us Iran ceasefire deal) “খুবই শক্তপোক্ত এবং নির্ভরযোগ্য” হতে হবে। তাঁর মতে, এমন শর্তই দরকার যা ভবিষ্যতে কোনও ধরনের অনিশ্চয়তার সুযোগ রাখবে না।
যদিও যুদ্ধ থামানোর জন্য সম্ভাব্য চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত কী হতে পারে, তা প্রকাশ করতে চাননি ট্রাম্প। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরানকে যদি স্থায়ীভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি বা পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, সেটি হবে আলোচনার ক্ষেত্রে একেবারেই অনড় একটি শর্ত। অর্থাৎ, এই প্রশ্নে কোনও আপসের সম্ভাবনা নেই বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
খার্গ দ্বীপে হামলার হুমকি, পাল্টা বার্তা তেহরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ ইরানের জ্বালানি রফতানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
এই হুমকির জবাবে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও হামলার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ইরান অভিযোগ করেছে, আমেরিকা নাকি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। যদিও সেই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দেয়নি তেহরান।
ড্রোন হামলা নিয়ে অভিযোগ
ইরান আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘ভুয়ো হামলা’ চালাচ্ছে এবং নিজেদেরই একটি ড্রোনের পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহার করছে।
আরাঘচি আরও অভিযোগ করেছেন, ইজরায়েল আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যাতে ইরানের বিদেশনীতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে নষ্ট করা যায়। অন্যদিকে সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়েতি রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
উপসাগরীয় দেশগুলির অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড বা আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানের উপর কোনও সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।
বর্তমানে আইআরজিসি এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল থেকে শুরু করে তেল রফতানি, সব ক্ষেত্রেই বড়সড় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে চলেছে।
সংঘাতের সূত্রপাত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর পর থেকেই সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে পড়ে। ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে। এখনও পর্যন্ত এই যুদ্ধে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে জানা গিয়েছে।