বিশেষজ্ঞদের মতে, IRGC-র এই প্রকাশ্য হুমকি আসলে রাজনৈতিক বার্তাও। এর মাধ্যমে ইরান বোঝাতে চাইছে—তারা এখনও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। কোনও আপস করতে চাইছে না। এটাও যুদ্ধ থামানোর ব্যাপারে একটা দরকষাকষির অঙ্গ।

নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দিল ইরান
শেষ আপডেট: 15 March 2026 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে (Benjamin Netanyahu) ঘিরে হত্যার গুজবের (Netanyahu assassination rumours) মধ্যেই এবার প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দিল ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)। রবিবার এক বিবৃতিতে ইরানের (Iran) এই শক্তিশালী সামরিক বাহিনী জানায়, নেতানিয়াহু যদি বেঁচে থাকেন, তাহলে তাঁকে “খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে”। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে IRGC নেতানিয়াহুকে ‘শিশুহত্যার অপরাধী’ বলে উল্লেখ করেছে। জানিয়ে রাখা ভাল, ইরানের উপর মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় একটি স্কুলের ১৬২ জন ছাত্রছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে—“এই জায়নিস্ট অপরাধী প্রধানমন্ত্রী জীবিত থাকলে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করব।”
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে 'একদম ঠিক আছেন' বলে বার্তা দিয়েছিল ইজরায়েল। তারপরই তাঁকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিল তেহরান। ইরানের দাবি, যদি তিনি এখনও জীবিত থাকেন, তবে তাঁকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।
যুদ্ধের ১৬তম দিনে রবিবার এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেয় ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (Islamic Revolutionary Guard Corps)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যদি এই শিশু-হত্যাকারী অপরাধী জীবিত থাকে, তাহলে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে বের করব এবং হত্যা করব।”
এই হুমকির মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে নানা জল্পনা, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঠিক কোথায় আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। কয়েকদিন ধরে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলেও আলোচনা চলছে।
এই জল্পনার সূত্রপাত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি প্রকাশিত সেই ভিডিওতে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর হাতে যেন ছ’টি আঙুল। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে দাবি করেন, ভিডিওটি সম্ভবত এআই ব্যবহার করে এডিট করা হয়েছে। সেখান থেকেই শুরু হয় নানা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব।
ভিডিওতে ৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহুকে দেখা যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর সেটিই ছিল তাঁর প্রথম সাংবাদিক বৈঠক। সেই বক্তব্যে নেতানিয়াহু ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে হত্যার পরোক্ষ হুমকিও দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর ইতিমধ্যেই এই সমস্ত খবরকে ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন—“নেতানিয়াহুকে নিয়ে যে সব হত্যার খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। তিনি ভালো আছেন।”
ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র শত্রুতা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে দুই দেশের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালোনার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, IRGC-র এই প্রকাশ্য হুমকি আসলে রাজনৈতিক বার্তাও। এর মাধ্যমে ইরান বোঝাতে চাইছে—তারা এখনও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। কোনও আপস করতে চাইছে না। এটাও যুদ্ধ থামানোর ব্যাপারে একটা দরকষাকষির অঙ্গ। নেতানিয়াহুকে সরাসরি টার্গেট করার কথা বলা মানে যুদ্ধ আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি। এরই মধ্যে ১৬ দিনের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় রকমের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আরও দীর্ঘ যুদ্ধ হলে ট্রাম্প প্রশাসনও চাপে পড়তে বাধ্য।