মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধবিরতির জন্য যে কোনও সম্ভাব্য সমঝোতার শর্ত “খুবই শক্তপোক্ত এবং নির্ভরযোগ্য” হতে হবে। তাঁর মতে, এমন শর্তই দরকার যা ভবিষ্যতে কোনও ধরনের অনিশ্চয়তার সুযোগ রাখবে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 15 March 2026 07:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী হলেও আপাতত কোনও চুক্তিতে যেতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর বক্তব্য, সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত (US Iran deal) এখনও যথেষ্ট পাকাপোক্ত বা গ্রহণযোগ্য নয়।
শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC News–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরান একটি চুক্তিতে আসতে চাইছে। কিন্তু আমি এখনই সেই তাতে রাজি নই, কারণ শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ঠিকঠাক নয়।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, যুদ্ধবিরতির জন্য যে কোনও সম্ভাব্য সমঝোতার শর্ত (Us Iran ceasefire deal) “খুবই শক্তপোক্ত এবং নির্ভরযোগ্য” হতে হবে। তাঁর মতে, এমন শর্তই দরকার যা ভবিষ্যতে কোনও ধরনের অনিশ্চয়তার সুযোগ রাখবে না।
যদিও যুদ্ধ থামানোর জন্য সম্ভাব্য চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত কী হতে পারে, তা প্রকাশ করতে চাননি ট্রাম্প। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরানকে যদি স্থায়ীভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি বা পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, সেটি হবে আলোচনার ক্ষেত্রে একেবারেই অনড় একটি শর্ত। অর্থাৎ, এই প্রশ্নে কোনও আপসের সম্ভাবনা নেই বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শান্তি প্রচেষ্টায় অনীহা?
ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসে এমন এক সময়, যখন আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানায়, আরব দুনিয়ার কয়েকটি মিত্র দেশ যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার চেষ্টা করলেও সেই উদ্যোগে সাড়া দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
রয়টার্স তিনটি পৃথক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করে, আরব দুনিয়ার মিত্রদের তরফে কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব এলেও ওয়াশিংটন তা কার্যত নাকচ করে দিয়েছে।
যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে এতদিন বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। প্রথমদিকে তিনি বলেছিলেন, মার্কিন সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। কিন্তু পরে তাঁর দাবি, মার্কিন সেনা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। এমনকি তাঁর কথায়, ইরানে আঘাত হানার মতো “প্রায় আর কোনও লক্ষ্যই অবশিষ্ট নেই।”
তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা সেই আশঙ্কাকেই জোরদার করেছে।
আবারও হামলার ইঙ্গিত
ইরানের তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই পরিচালিত হয় খার্গ দ্বীপ থেকে। সেই দ্বীপেই শনিবার মার্কিন বাহিনীর হামলার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসে। তবে হামলার পরও থামার ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প। উল্টে তিনি বলেন, খার্গ দ্বীপে আবারও হামলা হতে পারে।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, দ্বীপটি ইতিমধ্যেই “সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে”, তবু “মজা করার জন্য” যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আরও কয়েকবার সেখানে হামলা চালাতে পারে।
সংঘাতে হাজারের বেশি প্রাণহানি
ইরান এবং যৌথভাবে লড়াই করা ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই দু'হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ইরানের নাগরিক বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। কারণ, সংঘাতের জেরে সামুদ্রিক পরিবহণ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালীতে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই যায়।
ফলে এই যুদ্ধ ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকট হিসেবেই দেখা হচ্ছে।