আহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, মোহনবাবু এর আগেও বারবার ছাত্রদের প্রতি রূঢ় আচরণ করেছেন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেনি।

হাসপাতালে ভর্তি আহত ছাত্র
শেষ আপডেট: 28 August 2025 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও শিক্ষক নির্যাতন (teacher accused of breaking Class 8 student's arm)। এবার অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) বিশাখাপত্তনমের মধুরাভদা এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে ঘটেছে নৃশংস ঘটনা। অভিযোগ, শ্রী তনুশ নামে একটি স্কুলের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক লোহার টেবিল (Iron Table) দিয়ে মেরে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের হাত ভেঙে (Hand Broken) দেন।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ছাত্রের হাত তিন জায়গায় ভেঙে (Teacher Broke Hand of Student) গিয়েছে। বর্তমানে তাকে মেডিকোভার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং জটিল অস্ত্রোপচার (Operation) চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর আঘাতের কারণে সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোহন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। পিএম পলেম থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং শিক্ষকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকরা ও সমাজকর্মীরা। ইতিমধ্যেই তাঁরা স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করছেন।
আহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, মোহনবাবু এর আগেও বারবার ছাত্রদের প্রতি রূঢ় আচরণ করেছেন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেনি। এবারের ঘটনায় ছাত্রের শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি গভীর মানসিক আঘাতও লেগেছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কেরলের (Kerala) কাসারগোড়ের একটি সরকারি স্কুলেও শিক্ষক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কুন্দামকুঝি গভর্নমেন্ট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধর করেন সেই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক। অভিযোগ, মারধরের ফলে ছাত্রটির কান ফেটে গিয়ে কানের পর্দা ছিঁড়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটে ১১ অগস্টের। ছাত্রটির মা জানিয়েছেন, সকালের প্রার্থনা চলাকালীন তাঁর ছেলে পায়ে নুড়ি পাথর নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল। সেই কারণেই প্রধান শিক্ষক তাকে চড় মারেন। ঘটনার সাক্ষী ছিল ছেলেটির ছোট বোন। ভাইকে মারধর হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ে মেয়েটিও।
বিষয়টি সামনে আসতেই পদক্ষেপ করেছেন কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবনকুট্টি। তিনি বলেন, “শিশুর মায়ের কাছ থেকে ফোনে অভিযোগ পেয়েছি। আমি জেলা শিক্ষাধিকারীকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষকরা কখনও শারীরিক শাস্তি দিতে পারেন না, এ কথা আমি আগেই জানিয়েছি।”
ক্রমাগত এই ধরনের ঘটনার ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে। শিশু অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলি বলছে, এখনও বহু স্কুলে মেরে ধরে শাস্তি দেওয়া নিত্যদিনের ঘটনা। কঠোর আইন থাকলেও প্রয়োগের অভাবেই একের পর এক শিশু নির্যাতন হচ্ছে।