এই মামলায় তখন জুনিয়র আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন অ্যান্টনি রাজু। সেখান থেকেই শুরু হয় নাটক।
.jpeg.webp)
কেরলের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী অ্যান্টনি রাজু
শেষ আপডেট: 7 January 2026 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিরুবনন্তপুরম (Thiruvananthapuram) থেকে শুরু হয়েছিল যে মামলা, তার রেশ গড়াল তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে। শেষমেশ ৩ জানুয়ারি আদালতের রায়ে কার্যত যবনিকা পড়ল ভারতের অন্যতম জটিল আইনি নাটকের। মাদক মামলায় প্রমাণ লোপাটের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন কেরলের বিধায়ক (MLA) ও প্রাক্তন মন্ত্রী অ্যান্টনি রাজু (Antony Raju)। সাজা-তিন বছরের কারাদণ্ড। স্বাভাবিক নিয়মেই বিধায়ক পদ খোয়ালেন শাসকদল বামফ্রন্টের এই নেতা। চলতি বছর বিধানসভা ভোটের আগে কার্যত এখানেই থামল তাঁর রাজনৈতিক সফর।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই, এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে ঠিক কী ছিল?
উত্তরটা শুনলে এখনও চমকে যাচ্ছেন আইনজীবীরাও। একটি গাঢ় নীল, পুরনো অন্তর্বাস (Underwear)। যেটি ১৯৯০ সালে তিরুবনন্তপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Thiruvananthapuram International Airport) গ্রেফতার হওয়া এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল।
ঘটনাটির শুরু ১৯৯০ সালে। অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যান্ড্রু সালভাতোরে সারভেলির (Andrew Salvatore Cervelli) অন্তর্বাসের গোপন পকেট থেকে উদ্ধার হয় ৬১.৫ গ্রাম হ্যাশিশ (মাদক)। স্বাভাবিকভাবেই শক্ত মামলা। ১৯৯২ সালে সেশনস কোর্ট (Sessions Court) তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে।
এই মামলায় তখন জুনিয়র আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন অ্যান্টনি রাজু। সেখান থেকেই শুরু হয় নাটক। ১৯৯১ সালে কেরল হাইকোর্টে (Kerala High Court) আপিল করে সারভেলির আইনজীবীরা দাবি করেন, যে অন্তর্বাস পুলিশ দেখাচ্ছে, তা তাঁর নয়। আদালতেই সেই অন্তর্বাস পরার ‘ডেমো’ হয়। দেখা যায়, অন্তর্বাসটি ছোট সারভেলির গায়ে হবে না। সেই যুক্তিতেই সারভেলি মুক্তি পান। যদিও বিচারক স্পষ্ট লিখেছিলেন, প্রমাণ লোপাটের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এতে।
বছর কেটে যায়। সারভেলি অস্ট্রেলিয়ায় (Australia) ফিরে ফের এক খুনের মামলায় জেলে যান এবং সহবন্দির কাছে স্বীকার করেন, কেরলের মামলায় টাকা দিয়ে প্রমাণ বদলানো হয়েছিল। খবর পৌঁছয় ইন্টারপোল (Interpol) মারফত ভারতে। সন্দেহ পোক্ত হয় তদন্তকারী অফিসার কে কে জয়মোহনের (KK Jayamohan)। তাঁর বক্তব্য, গ্রেফতারের সময় অন্তর্বাসটি সারভেলির গায়েই ছিল।
তদন্তে বেরোয় চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়ম ভেঙে সেই অন্তর্বাস আদালত থেকে ছাড়া হয়েছিল অ্যান্টনি রাজুর হাতে। প্রায় চার মাস তা তাঁর কাছেই ছিল। ফরেনসিক রিপোর্টে ধরা পড়ে, ওই সময়েই হাতের সেলাই করে অন্তর্বাসের মাপ ছোট করা হয়।
১৯৯৪ সালে রাজু ও কোর্ট ক্লার্ক কে এস জোসের (KS Jose) বিরুদ্ধে মামলা হয়। চার দশকের কাছাকাছি সময় ধরে মামলা চলার মাঝে রাজু হয়ে ওঠেন বিধায়ক, এমনকি পরিবহণমন্ত্রীও। ২০২৩ সালে হাইকোর্টে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, ২০২৪-এ সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সেই রায় খারিজ করে।
শেষপর্যন্ত বিচার। ১৯ জন সাক্ষী। তদন্তকারী অফিসারের সেই বিখ্যাত উক্তি, “মামলায় বোমা পুঁতেছি”-সব মিলিয়ে ৩ জানুয়ারি রায়। তিন বছরের সাজা অ্যান্টনি রাজুর। আর একটা অন্তর্বাসই শেষ করে দিল রাজুর মতো রাজনীতিকের জীবন। ভাবা যায়!