মহারাষ্ট্রের পুরভোটে বিরোধীদের সব কৌশল ভেস্তে দিয়ে শেষ হাসি হাসল বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি। দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বে শহুরে রাজনীতিতে নিরঙ্কুশ দখল কায়েম করতে চলেছে শাসক শিবির।

বিজেপি ও ফড়নবিশ
শেষ আপডেট: 16 January 2026 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের শহুরে রাজনীতির মানচিত্রে বড়সড় বদল। শুক্রবার ভোটগণনা শেষে স্পষ্ট হয়ে গেল, শহরের রায় মহাযুতির (Mahayuti)-র পক্ষে। বিজেপি (BJP)-নেতৃত্বাধীন এই জোট রাজ্যের প্রায় সব বড় পুরনিগমে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটের পর শুক্রবার ফলপ্রকাশে সবচেয়ে বড় চমক-বৃহন্মুম্বই পুরনিগম (BMC)। দেশের সবচেয়ে ধনী এই পুরসভায় অর্ধেকের গণ্ডি টপকে গেল এই জোট। এর ফলে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ঠাকরে (Thackeray) পরিবারের একচেটিয়া দখলের অবসান ঘটল, যা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় বলেই ধরা হচ্ছে। রাজ ও উদ্ধব মিলেও ঠেকাতে পারলেন না।
এই জয়ের কেন্দ্রে বিজেপি নিজেই। কার্যত ‘বড় ভাই’-এর ভূমিকায় উঠে এসেছে গেরুয়া শিবির। নাগপুরে (Nagpur) বিজেপির দাপটে একইভাবে ধরাশায়ী হল বিরোধীরা। ৮০টিরও বেশি ওয়ার্ডে এগিয়ে থেকে কংগ্রেসকে (Congress) অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে তারা। একই ছবি পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় (Pimpri-Chinchwad) ও পুনেতেও (Pune)। এখানে অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)নেতৃত্বাধীন এনসিপি (NCP) মহাযুতি ছেড়ে শরদ পাওয়ারের (Sharad Pawar) এনসিপির (SP) সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করলেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সেই চ্যালেঞ্জ সামলে নেয়। সঙ্গে রুখে দেওয়া হয়েছে উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thackeray)-এর শিব সেনা (UBT)-কেও।
মুম্বইয়ের বিজেপি সদর দফতরে ফল ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ (Devendra Fadnavis) ‘মহাবিজয়’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) উন্নয়নমুখী রাজনীতির উপর শহুরে ভোটারদের আস্থারই প্রতিফলন এই ফল।
যা বিশেষভাবে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে (Eknath Shinde)। তাঁর নেতৃত্বাধীন শিব সেনা (Shiv Sena) মুম্বই মহানগর অঞ্চলে (MMR) উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ঠাণে (Thane), কল্যাণ-ডোম্বিবলি (Kalyan-Dombivli) এবং মুম্বইয়ের শহরতলির একাধিক ওয়ার্ডে শিন্ডে শিব সেনার জয় উদ্ধব-শিব সেনার ঘাঁটিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। শিন্ডের দাবি, এই রায় প্রমাণ করে, উন্নয়ন আর মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই ‘আসল’ শিব সেনার পরিচয়, শুধু উত্তরাধিকার নয়। নবি মুম্বইতেও (Navi Mumbai) বিজেপির দাপট চোখে পড়ার মতো। ১০৯ সদস্যের পুরসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে গেরুয়া শিবির।
অন্যদিকে, বিরোধীদের জন্য এই ফল বিরাট শিক্ষার। মুম্বইয়ে উদ্ধব ও রাজ ঠাকরে (Raj Thackeray) ২০ বছর পর মিলিত হয়ে মাঠে নামলেও, লাভের লাভ কিছু হল না। মাঠের ভিড় ভোটে রূপান্তরিত হয়নি। শিব সেনা (UBT) মধ্য মুম্বই ও কোঙ্কণের (Konkan) কিছু এলাকায় লড়াই চালালেও, কংগ্রেস ও শরদ পাওয়ার শিবির সীমাবদ্ধ থেকেছে লাতুর (Latur) ও কলহাপুরের (Kolhapur) কিছু অংশে। বিরোধীরা অমোচনীয় কালি (Indelible Ink) ও ইভিএম (EVM) নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রাজ্য নির্বাচন কমিশন (State Election Commission) তা খারিজ করে দেয়। প্রায় ৫৩ শতাংশ ভোটদানকে সুস্থ গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২৯টি পুরনিগমের মধ্যে ২৫টিতে মহাযুতির দখল আগামী বিধানসভা চক্রের আগে শাসক শিবিরের শক্তি আরও পোক্ত করল। মেট্রো সম্প্রসারণ, কোস্টাল রোড (Coastal Road)-সহ একাধিক থমকে থাকা শহুরে পরিকাঠামো প্রকল্প এবার গতি পাবে বলেই দাবি শাসক পক্ষের।