উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) ও রাজ ঠাকরের এমএনএসের যৌথ ইস্তাহারও প্রকাশিত হল সেই ভবন থেকেই।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 4 January 2026 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) রাজনীতিতে আবার এক নাটকীয় বাঁক। প্রায় দু’দশক পর শিবসেনা ভবনে (Shiv Sena) পা রাখলেন রাজ ঠাকরে (Raj Thackeray)। রবিবার দুপুরে এই প্রবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, রাজ ঠাকরের ব্যক্তিগত রাজনীতির ক্ষেত্রেও আবেগঘন প্রত্যাবর্তন। ২০০৫ সালে উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যে শিবসেনা ভবন ছেড়েছিলেন, ২০ বছর পরে সেখানেই আবার হাজির হলেন তিনি, 'বন্ধু' হয়ে। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) ও রাজ ঠাকরের এমএনএসের যৌথ ইস্তাহারও প্রকাশিত হল সেই ভবন থেকেই।
এই ঘটনাপ্রবাহের শিকড় অবশ্য বহু আগে। ২০০৩ সালে মহাবলেশ্বরের সম্মেলনে বালাসাহেব ঠাকরে উদ্ধবকে শিবসেনার কার্যনির্বাহী সভাপতি ঘোষণা করেন। তখনই প্রথম ফাটল ধরে ঠাকরে পরিবারের রাজনীতিতে। বহু সেনাকর্মীই মনে করতেন, বালাসাহেবের স্বাভাবিক উত্তরসূরি রাজ। তাঁর ভাষণ, আক্রমণাত্মক ভঙ্গি, এমনকি কার্টুন আঁকার দক্ষতাও বালাসাহেবের ছায়া বহন করত। কিন্তু উত্তরাধিকার প্রশ্নে সেই সিদ্ধান্তই দুই ভাইয়ের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।
রাজের রাজনৈতিক যাত্রাপথও ছিল নানা বাঁকে ভরা। ছাত্র সংগঠন ভারতীয় বিদ্যার্থী সেনার নেতৃত্ব, নব্বইয়ের দশকে শিব উদ্যোগ সেনা গঠন, এমনকি কর্মসংস্থানের জন্য মাইকেল জ্যাকসনকে মুম্বইয়ে এনে তহবিল তোলার মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, সবই তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরেছিল। তবে ১৯৯৬ সালের রমেশ কিনি হত্যাকাণ্ডে নাম জড়ানোয় বড় ধাক্কা খান তিনি। সিবিআই তদন্ত, ঘনিষ্ঠ সহযোগীর গ্রেফতারের পর থেকেই সংগঠনের ভিতরে উদ্ধবের প্রভাব বাড়তে থাকে, রাজ-অনুগামীরা কোণঠাসা হন।
২০০৫ সালে শিবসেনা ছেড়ে বেরিয়ে যান রাজ। পরের বছর জন্ম নেয় মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা। মারাঠি স্বার্থ ও বহিরাগত বিরোধিতার রাজনীতি ফের সামনে আসে। ২০০৯ সালে ১৩ বিধায়ক জিতে এমএনএস নজর কাড়ে, শিবসেনার ঘাঁটি দাদরেও সাফল্য আসে। ২০১২ সালে নাসিকে মেয়র দখল করে রাজ দাবি করেছিলেন, রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য। কিন্তু সেই উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১৪ ও ২০১৯ বিধানসভা নির্বাচনে এক আসনে নেমে আসে এমএনএস। নেতারা দল ছাড়তে শুরু করেন।
এর মধ্যেই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্পর্কের ওঠানামা। একসময় ‘গুজরাত মডেল’-এর প্রশংসা, আবার ২০১৯ সালে তীব্র আক্রমণ, ইডি তলব, সব মিলিয়ে রাজনীতির অবস্থান বদলাতে থাকে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এমএনএস বিজেপিকে নিঃশর্ত সমর্থন জানায়। পাশাপাশি মারাঠিবাদ থেকে ধীরে ধীরে হিন্দুত্বের দিকে ঝুঁকে পড়ে দল। দলের পতাকা বদলায়, ইস্যুও বদলায়।
এই সব ওঠানামার পর রবিবারের দৃশ্য তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। শিবসেনা ভবনে উদ্ধব ও রাজ একসঙ্গে। যৌথ ইস্তাহারে গৃহকর্মীদের মাসে ১,৫০০ টাকা ভাতা, ৭০০ বর্গফুট পর্যন্ত বাড়িতে সম্পত্তিকর ছাড়ের মতো প্রতিশ্রুতি। কিন্তু তার চেয়েও বড় বার্তা, ২০ বছরের দ্বন্দ্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দূরত্বের পর ঠাকরে পরিবারের দুই রাজনৈতিক উত্তরসূরির মিলন। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এর অভিঘাত কতটা হবে, এখন সেটাই দেখার।