সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুনের মামলায় অভিযুক্ত হয়েও মহারাষ্ট্রের পুরভোটে বিপুল ব্যবধানে জয়। রায়ের নৈতিকতা ও রাজনীতির চরিত্র নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

গৌরী লঙ্কেশ ও শ্রীকান্ত পাঙ্গরকর
শেষ আপডেট: 16 January 2026 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচার চলছে, তার মাঝেই ভোটে দাঁড়ানো এবং জয়। শুক্রবার দুপুরে এই বৈপরীত্য ঘিরে দেশজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটা পরিষ্কার করে বলা যাক। ২০১৭ সালে খুন হন বিখ্যাত সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ (Gauri Lankesh)। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত শ্রীকান্ত পাঙ্গরকর (Shrikant Pangarkar) এ বার মহারাষ্ট্রের জালনা পুরসভা (Jalna Municipal Corporation) নির্বাচনে দাঁড়ান এবং শুক্রবার জয়ী হন। নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ে ওয়ার্ড নম্বর ১৩-তে তিনি বিজেপি-সহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদের হারিয়ে জিতে গিয়েছেন ২,৬২১ ভোটে।
বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণার পরই সমর্থকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিজয় উদযাপন করতে দেখা যায় পাঙ্গরকরকে। সেই ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় কতোটা নিরাপদ সাধারণ মানুষেক জন্য।
এ বারের জালনা পুরসভা নির্বাচন হয়েছিল ১৫ জানুয়ারি। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ওই ওয়ার্ডে একনাথ শিন্ডে (Eknath Shinde) নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (Shiv Sena) কোনও প্রার্থী দেয়নি। ফলে লড়াইটা মূলত হয় নির্দল ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে, ভোট ভাগও হয়ে যায় সেভাবেই।
জয়ের পর পাঙ্গরকর দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এখনও কোনও সাজা ঘোষণা হয়নি। মামলার বিচার চলছে এবং তিনি আইনি প্রক্রিয়ার উপর ভরসা রাখছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে নিজের বাড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী গৌরী লঙ্কেশ। ওই ঘটনা গোটা দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমত এবং রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। সেই মামলায় পরে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে পাঙ্গরকরের। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কর্নাটক হাইকোর্ট (Karnataka High Court) থেকে তিনি জামিন পান।
পাঙ্গরকরের রাজনৈতিক অতীত অনেকটা পুরনো। ২০০১ থেকে ২০০৬-অবিভক্ত শিবসেনার টিকিটে জালনা পুরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। ২০১১ সালে টিকিট না পেয়ে যোগ দেন হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি (Hindu Janjagruti Samiti)-তে। ২০১৮ সালের অগস্টে মহারাষ্ট্রে বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঁচা বোমা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মহারাষ্ট্র এটিএস (Maharashtra ATS) তাঁকে গ্রেফতার করে। সেসময় তাঁর বিরুদ্ধে ইউএপিএ (UAPA)-সহ একাধিক কঠোর আইনে মামলা হয়।
২০২৪ সালের বিধানসভা ভোটের আগে অল্প সময়ের জন্য শিন্ডে-শিবসেনায় যোগ দিলেও প্রবল সমালোচনার জেরে সেই অন্তর্ভুক্তি স্থগিত রাখা হয়। সব মিলিয়ে, বিচারাধীন অভিযুক্তের এই নির্বাচনী জয় রাজনীতি ও নৈতিকতার প্রশ্নে ফের একবার দেশকে মুখোমুখি দাঁড় করাল।