বিমানে দুটি ফ্লাইট রেকর্ডার ছিল—একটি বিমানের পিছনের দিকে (aft section), অপরটি সামনের দিকে (forward section)। এই দুই রেকর্ডার ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা ও ককপিট ভয়েস রেকর্ড একসঙ্গে সংরক্ষণ করে থাকে।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 10:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১ দুর্ঘটনার তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফ্লাইট রেকর্ডার। তদন্তকারী সংস্থা বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB) জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের দুটি ফ্লাইট রেকর্ডারের (Enhanced Airborne Flight Recorder - EAFR) মধ্যে একটি থেকে সফলভাবে ডেটা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করছে।
বিমানে দুটি ফ্লাইট রেকর্ডার ছিল—একটি বিমানের পিছনের দিকে (aft section), অপরটি সামনের দিকে (forward section)। এই দুই রেকর্ডার ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা ও ককপিট ভয়েস রেকর্ড একসঙ্গে সংরক্ষণ করে থাকে। বিমানের সাধারণ বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে ককপিট রেকর্ডারে পাওয়ার সাপ্লাই হয়। তা ছাড়া ফরওয়ার্ড রেকর্ডার একটি স্বতন্ত্র পাওয়ার সিস্টেম (RIPS) থেকেও শক্তি গ্রহণ করে। ফলে বিমানের মূল বিদ্যুৎ সরবরাহে বিভ্রাট হলেও, ককপিটের শব্দ ও ফ্লাইট তথ্য রেকর্ড হয়ে যেতে থাকে।
বিমানের পিছনের রেকর্ডারও ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয়। এটি একটি বাড়ির ছাদে পাওয়া গিয়েছিল। এতে আঘাত ও আগুনে পোড়ার চিহ্ন স্পষ্ট ছিল এবং তার সংযোগ তারগুলি জ্বলে গিয়েছিল। ১৬ জুন, সামনের ফ্লাইট রেকর্ডার উদ্ধার করা হয় অন্য একটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষের পাশে। এটি ছাইয়ে ঢেকে ছিল, কিছুটা অংশ গলে গিয়েছিল, তবে সংযোগ তথা কানেকশন তখনও কার্যকর ছিল।
এই দুই রেকর্ডার ২৪ জুন দিল্লির AAIB ল্যাবে আনা হয় বিশ্লেষণের জন্য। ডেটা উদ্ধার করতে প্রয়োজন ছিল গোল্ডেন চেসিস (‘Golden Chassis’) নামের একটি অভিন্ন ডিভাইস ও উপযুক্ত ডাউনলোড কেবল। এগুলি ২৩ জুন আমেরিকার NTSB থেকে সংগ্রহ করা হয়।
সামনের রেকর্ডার থেকে মোট ৪৯ ঘণ্টার ফ্লাইট ডেটা এবং ৬টি ফ্লাইটের তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দুর্ঘটনার ফ্লাইটটিও রয়েছে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডে শেষ দু’ঘণ্টার শব্দধ্বনি পাওয়া গেছে, যেখানে দুর্ঘটনার সময়কার ঘটনাও রেকর্ড হয়েছে।
তবে পিছনের রেকর্ডার এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল যে, প্রচলিত উপায়ে তা থেকে তথ্য উদ্ধার সম্ভব হয়নি। ডিভাইসটি খোলার পর দেখা যায়, এর মেমোরি কার্ডটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
প্রাথমিকভাবে সামনের রেকর্ডার থেকে প্রাপ্ত ডেটা ও অডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তদন্তে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে এএআইবি।
এই ভয়েস রেকর্ডিং থেকেই জানা গেছে, এক পাইলট বিস্মিত হয়ে অপর পাইলটকে জিজ্ঞাসা করছেন, হোয়াই ডিড ইউ কাট অফ? অর্থাৎ তুমি জ্বালানি বন্ধ করলে কেন? সতীর্থ পাইলট উত্তরে বলেন, কই আমি তো বন্ধ করিনি! – এই কথোপকথন থেকেই স্পষ্ট, কারও ইচ্ছাকৃত কাজ এটা ছিল না, বরং একটি রহস্যজনক প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি থেকেই দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে বিমানটির গতি ছিল ১৮০ নট, ঠিক সেই সময় এক সেকেন্ড ব্যবধানে দুই ইঞ্জিনের ফুয়েল কাট-অফ সুইচ ‘RUN’ থেকে ‘CUTOFF’ অবস্থায় চলে যায়। ককপিটে সঙ্গে সঙ্গেই ইঞ্জিন রিস্টার্টের চেষ্টা করা হলেও সময় ও উচ্চতা না থাকায় তা ব্যর্থ হয়। মাত্র ২৯ সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়ে।
তা ছাড়া বিমানবন্দরের সিসিটিভিতেও ধরা পড়েছে এয়ার টারবাইন (Ram Air Turbine - emergency power source) খোলার মুহূর্ত – তা থেকেও তদন্তকারীদের ধারণা ইঞ্জিনদুটি সম্পূর্ণভাবে বিকল হয়ে পড়েছিল।