প্রাথমিক তদন্তে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হল ‘ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং’।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 07:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার (Ahmedabad Air India Plane Crash) এক মাস পর অবশেষে প্রকাশ পেল বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর (AAIB) প্রাথমিক রিপোর্ট (Preliminary Report)। ১৫ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১-এর (Air India) দুই ইঞ্জিনেই একসঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কারণেই ঘটে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, যাতে প্রাণ হারান ২৬০ জন যাত্রী।
প্রাথমিক তদন্তে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হল ‘ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং’। সেখানে শোনা গেছে, এক পাইলট বিস্মিত হয়ে অপর পাইলটকে জিজ্ঞাসা করছেন, হোয়াই ডিড ইউ কাট অফ? অর্থাৎ তুমি জ্বালানি বন্ধ করলে কেন? সতীর্থ পাইলট উত্তরে বলেন, কই আমি তো বন্ধ করিনি! – এই কথোপকথন থেকেই স্পষ্ট, কারও ইচ্ছাকৃত কাজ এটা ছিল না, বরং একটি রহস্যজনক প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি থেকেই দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে বিমানটির গতি ছিল ১৮০ নট, ঠিক সেই সময় এক সেকেন্ড ব্যবধানে দুই ইঞ্জিনের ফুয়েল কাট-অফ সুইচ ‘RUN’ থেকে ‘CUTOFF’ অবস্থায় চলে যায়। ককপিটে সঙ্গে সঙ্গেই ইঞ্জিন রিস্টার্টের চেষ্টা করা হলেও সময় ও উচ্চতা না থাকায় তা ব্যর্থ হয়। মাত্র ২৯ সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়ে।
বিমানবন্দরের সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে এয়ার টারবাইন (Ram Air Turbine - emergency power source) খোলার মুহূর্ত – তা থেকেও তদন্তকারীদের ধারণা ইঞ্জিনদুটি সম্পূর্ণভাবে বিকল হয়ে পড়েছিল।
রিপোর্টের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—
বিমানের ওজন ও আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। বার্ড স্ট্রাইকের কোনও প্রমাণ মেলেনি। থ্রাস্ট লিভার প্রায় ‘আইডল’ অবস্থায় মিললেও ফ্লাইট ডেটা বলছে তা ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত এগিয়েই ছিল। বিমানের ফ্ল্যাপ ও ল্যান্ডিং গিয়ারের অবস্থানও ছিল সঠিক।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন একটি বুলেটিন জারি করেছিল বোয়িং ৭৩৭ বিমানের ফুয়েল সুইচের লকিং সিস্টেম নিয়ে, যা বোয়িং ৭৮৭-৮ মডেলেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সেটি বাধ্যতামূলক করা হয়নি এবং এয়ার ইন্ডিয়াও পরবর্তীতে সেই পরীক্ষা করেনি।
তদন্তকারী দল এখনও দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করেনি। তদন্তে সহায়তা করছেন পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার, ফ্লাইট রেকর্ড বিশেষজ্ঞ, অ্যাভিয়েশন সাইকোলজিস্ট ও মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা। একমাত্র জীবিত যাত্রীর সাক্ষাৎকার এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বিশ্লেষণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত হবে বলে জানা গিয়েছে।