১৫ পাতার এই রিপোর্টে প্রথমবারের মতো সরকারি ভাবে জানানো হল কী ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক মুহূর্তে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার (Ahmedabad Air India Plane Crash) এক মাস পর অবশেষে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করল এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)।
১৫ পাতার এই রিপোর্টে প্রথমবারের মতো সরকারি ভাবে জানানো হল কী ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক মুহূর্তে। গত ১২ জুন বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি আমদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে। বিমানে থাকা ২৪১ জনের মধ্যে ২৪০ জনের মৃত্যু হয়, সেই সঙ্গে মারা যান দুর্ঘটনাস্থলে থাকা আরও ১৯ জন।
রিপোর্টের মূল যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলা হয়েছে তা হল—
১. ফ্লাইট চলাকালীন ফুয়েল কাট-অফ সুইচ সক্রিয় হয়েছিল: স্থানীয় সময় ১টা ৩৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে বিমানটি ১৮০ নট গতিবেগে পৌঁছনোর পরেই, দুই ইঞ্জিনের ফুয়েল কাট-অফ সুইচ ‘Run’ থেকে ‘Cutoff’ পজিশনে চলে যায়।
২. প্রথম ইঞ্জিনে আংশিক পুনরুদ্ধার করা যায়। এক নম্বর ইঞ্জিন প্রথমে থেমে গেলেও কিছুটা সময় পর তার কোর ডিসিলারেশন বন্ধ হয় অর্থাৎ তার গতি কমে যাওয়া বন্ধ হয় এবং ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার শুরু হয়।
৩. ফুয়েল কাট অফ হওয়ার জন্য দ্বিতীয় ইঞ্জিনও একই সঙ্গে বন্ধ হয়। ২ নম্বর ইঞ্জিন পুনরায় চালু হলেও তার গতি কমতেই থাকে, এবং তাতে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ করেও তা সঠিক অবস্থায় ফেরানো যায়নি।
৪. ককপিটের সেই বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ধরা পড়েছে রেকর্ডিংয়ে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে এক পাইলট তাঁর সতীর্থকে জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কেন বন্ধ (পড়ুন জ্বালানি সরবরাহ) করেছ?” উত্তরে অন্যজন বলেন, “আমি করিনি”— যা ভুল বোঝাবুঝির ইঙ্গিত দেয়।
৫. ইঞ্জিন রিলাইটের চেষ্টা যে হয়েছিল তারও ইঙ্গিত মিলেছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফুয়েল সুইচ ফের ‘Run’ অবস্থায় আনা হয় এবং EGT বেড়ে যায়—যা ইঙ্গিত দেয় পুনরায় ইঞ্জিন চালুর চেষ্টা হয়েছিল।
৬. দুই ইঞ্জিনে গতি ন্যূনতম স্তরের নিচে নেমে যায়: EAFR ডেটা অনুযায়ী, ইঞ্জিন দুটির N2 মান (core speed) ন্যূনতম আইডল গতির নিচে চলে যায়।
৭. রিলাইট চেষ্টায় ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বেড়েছিল: ফুয়েল সুইচ ফের ‘Run’ অবস্থায় আনলে EAFR ডেটায় দেখা যায় ইঞ্জিনের Exhaust Gas Temperature (EGT) বাড়ছে, যা ইঞ্জিনে জ্বলনের ইঙ্গিত দেয়।
৮. পিছনের ফ্লাইট রেকর্ডার ক্ষতিগ্রস্ত: দুর্ঘটনায় পিছনের রেকর্ডার এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে তা প্রচলিত পদ্ধতিতে ডেটা উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
৯. আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা: তদন্ত ব্যুরো জানিয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হবে।
১০. কোনও সুরক্ষা নির্দেশিকা এখনও দেওয়া হয়নি: রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বোয়িং ৭৮৭-৮ অথবা GE GEnx-1B ইঞ্জিন অপারেটরদের জন্য কোনও নিরাপত্তা সুপারিশ জারি করেনি AAIB।