তদন্তে উঠে এসেছে, এই অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের এক আন্তঃরাজ্য চক্রের অংশ। ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 November 2025 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজধানীর (New Delhi) নাকের ডগায় বিপুল বিস্ফোরক এবং আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার হয়েছেন দুই চিকিৎসক (Doctors)। এছাড়াও এক মহিলা চিকিৎসককে খুঁজছিল পুলিশ। তাঁকেও গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে। তাঁর নাম শাহিন বলে জানা গেছে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এই সাফল্য আসে। তবে প্রথমে জানা গেছিল ৩৬০ কিলো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু আপাতত তথ্য মিলেছে ২ হাজার ৯০০ কিলো বিস্ফোরকের (Explosives) সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu Kashmir) ধৃত কয়েকজন সন্দেহভাজনের জেরা থেকে পাওয়া সূত্র ধরে পুলিশ এই অভিযানে নামে। ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক ও চিকিৎসক ডা. মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া করা বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় প্রায় ৩৫০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক। জানা গিয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে তিনি ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের এক আন্তঃরাজ্য চক্রের অংশ। ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদাবাদের ওই চিকিৎসক, আরও এক কাশ্মীরি চিকিৎসক এবং একজন ইমাম।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৪ বস্তা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (ওজন প্রায় ১০০ কিলোগ্রাম), একটি একে-৪৭ রাইফেল, ৮৪ রাউন্ড গুলি, কয়েকটি টাইমার, ৫ লিটার রাসায়নিক দ্রবণ, ৪৮টি সম্ভাব্য আইইডি তৈরির উপকরণ এবং একাধিক ব্যাটারি ও তারের বান্ডিল। এছাড়াও একটি মহিলা চিকিৎসকের মারুতি সুইফট ডিজায়ার গাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যেখান থেকে রাইফেলটি উদ্ধার হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অর্থের জোগান আসত পেশাগত ও একাডেমিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে—‘সামাজিক ও দাতব্য কার্যকলাপ’-এর ছদ্মবেশে। গ্রেফতারদের মধ্যে কয়েকজন কাশ্মীরের সোপোর, গন্দেরবাল, কুলগাম ও পুলওয়ামার বাসিন্দা। তাঁরা পাকিস্তান-ভিত্তিক বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে সন্দেহ।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “তদন্তে উঠে এসেছে এক হোয়াইট-কলার টেরর ইকোসিস্টেম - যেখানে শিক্ষিত পেশাজীবী ও ছাত্ররা জড়িত ছিল, যারা বিদেশি যোগাযোগের মাধ্যমে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের কাজ করত।”
উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানি যোগসূত্রের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ, অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই অভিযান সাম্প্রতিক কালে কাশ্মীর উপত্যকা সম্পর্কিত সবচেয়ে বড় বিস্ফোরক উদ্ধার। আরও কয়েকটি রাজ্যে এই নেটওয়ার্কের শাখা ছড়ানো থাকতে পারে বলে সন্দেহ।