ফরিদাবাদের আল ফালাহ হাসপাতালের কাছে ভাড়া নেওয়া একটি ঘর থেকে রবিবার গ্রেফতার করা হয় চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলকে। তাঁর ভাড়া বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট।

গ্রেফতার হওয়া দুই যুবক
শেষ আপডেট: 10 November 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ (Jammu Kashmir Police) ও হরিয়ানা পুলিশের (Haryana Police) যৌথ অভিযানে ভয়াবহ জঙ্গি যোগের ইঙ্গিত (Terrorism)। হরিয়ানার ফরিদাবাদের এক মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত দুই চিকিৎসকের (Doctors) বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৬০ কিলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম। পুলিশ জানিয়েছে, এই বিশাল জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ (AGuH)-এর সঙ্গে।
ফরিদাবাদের (Faridabad) আল ফালাহ হাসপাতালের (Hospital) কাছে ভাড়া নেওয়া একটি ঘর থেকে রবিবার গ্রেফতার (Arrest) করা হয় চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলকে। তাঁর ভাড়া বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। এছাড়া, তাঁরই সহকর্মী এক মহিলা চিকিৎসকের গাড়ি থেকে মিলেছে একটি কারাম কক অ্যাসল্ট রাইফেল। ওই চিকিৎসককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে একই হাসপাতালের চিকিৎসক আদিল আহমদ রাথারকে অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই মুজাম্মিল শাকিলের নাম সামনে আসে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। সোমবার ওই সূত্র ধরেই ফরিদাবাদে চালানো হয় তল্লাশি অভিযান। পুলিশ সূত্রে খবর, এই নেটওয়ার্কে আরও এক চিকিৎসক জড়িত থাকতে পারেন। তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি।
তদন্তে জানা গেছে, ফরিদাবাদের ধোজ এলাকায় শাকিল যে ঘরটি ভাড়া নিয়েছিলেন, সেখানে আটটি বড় ও চারটি ছোট সুটকেসে রাখা ছিল বিস্ফোরক রাসায়নিক। উদ্ধার সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, তিনটি ম্যাগাজিন, ৮৩ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তল, ২০টি টাইমার, ২৪টি রিমোট কন্ট্রোল, ৫ কেজি ধাতু, ওয়াকিটকি সেট, বৈদ্যুতিক তার, ব্যাটারি ও অন্যান্য উপকরণ। এছাড়া বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ওই মহিলা চিকিৎসকের মারুতি সুইফট গাড়িও।পুলিশ জানিয়েছে, ফরিদাবাদের এক মসজিদের ইমাম ইশতিয়াক, যিনি নিয়মিত মুজাম্মিলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে এক ‘হোয়াইট-কলার টেরর ইকোসিস্টেম’ (White Collar Terror Ecosystem) , যেখানে পেশাদার চিকিৎসক, ছাত্র ও শিক্ষিত ব্যক্তিরা বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগ রেখে চক্র চালাতেন। অর্থ সংগ্রহ, অস্ত্র সরবরাহ ও নতুন সদস্য সংগ্রহ—সবই চলত গোপন অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই অভিযান সাম্প্রতিক কালে কাশ্মীর উপত্যকা সম্পর্কিত সবচেয়ে বড় বিস্ফোরক উদ্ধার। আরও কয়েকটি রাজ্যে এই নেটওয়ার্কের শাখা ছড়ানো থাকতে পারে বলে সন্দেহ।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ (UAPA) ও আর্মস অ্যাক্ট (Arms Act)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।