পুণের সরকারি জমি দখলের অভিযোগে বিতর্কে অজিত পাওয়ারের পুত্র। অভিযোগ উঠতেই তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশের। তদন্তে অসন্তুষ্ট উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত, রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ল মহারাষ্ট্রে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 8 November 2025 08:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে একটি জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের ছেলের। অভিযোগ উঠতেই তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ। অন্যদিকে, তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করে মুখ্যমন্ত্রীর একতরফা তদন্তের নির্দেশে বেজায় চটেছেন শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত।
পুণেতে বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং তথ্যপ্রযুক্তি পার্কের জমি বেআইনিভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে। সেই কোম্পানির শীর্ষ কর্তাদের একজন অজিত পুত্র পার্থ।
মহারাষ্ট্রে জমি বাড়ি কেনা বেচা সংক্রান্ত বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্টার জেনারেল রাজেন্দ্র মুথে প্রাথমিক তদন্তের পর জানিয়েছেন, পুণের ওই চল্লিশ একর জমি মহারাষ্ট্র সরকারের। দিন শতকের মধ্যেই তাঁরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা করে দেবেন।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী ফড়ণবিশ তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না। সে তিনি যতই ক্ষমতাবান হোন।
মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলের অভিমত মুখ্যমন্ত্রী আসলে উপ মুখ্যমন্ত্রী পাওয়ারকে নিশানা করে ওই কথাগুলি বলেছেন। মহারাষ্ট্রে দু'জন উপমুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। তাঁদের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। শিবসেনা নেতা শিন্ডের সঙ্গে বিজেপি তথা মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধ এখনও চলমান। প্রায়ই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন শিন্ডে। এখন নতুন করে বিবাদ শুরু হয়েছে আর এক উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের সঙ্গে।
জল্পনা শুরু হয়েছে, বিজেপি কি জোট ভেঙে একাই সরকার চালাতে তৈরি হচ্ছে। মহারাষ্ট্র বিধানসভায় বিজেপির এক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তবে ফারাক সামান্য। মনে করা হচ্ছে, নির্দল এবং অন্যান্য দল ভাঙিয়ে বর্তমান দুই শরিকে বিদায় দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
পদ্ম শিবির মনে করছে দুই ওজনদার উপমুখ্যমন্ত্রী পদে পদে সরকারি সিদ্ধান্তে বাগড়া দিচ্ছেন। ফলে রাজ্য সরকার প্রত্যাশিত গতিতে কাজ করতে পারছে না। পুণের জমি কেলেঙ্কারির ঘটনাকে হাতিয়ার করে অজিত পাওয়ারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে কোন কোন মহল মনে পড়ছে।
পাল্টা সক্রিয় হয়েছেন অজিত পাওয়ারও। তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমির কেনাবেচা সংক্রান্ত দলিল গুলি ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এর সঙ্গে অনিয়মের কোন সম্পর্ক নেই।
অজিত পাওয়ার শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অজিত পাওয়ার তাঁর দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। আধ ঘন্টার বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি নিজে কখনও কোন অনিয়মে জড়াইনি। জমি কেনা বেচাতে অনিয়মে আমার পুত্রের নাম জড়ানো হয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি তদন্ত রিপোর্ট পুরোটাই যেন প্রকাশ করা হয়। তাহলে স্পষ্ট হবে এই অনিয়মেকে কীভাবে যুক্ত ছিল।
প্রশাসনিক মহল মনে করছে, পাওয়ার পুত্রকে এই অনিয়মের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত করার কোন সুযোগ নেই। অন্তত নথিপত্রে তেমন কিছু এখনও পাওয়া যায়নি। সম্ভবত সেটা জানতে পেরেই অজিত পাওয়ার পাল্টা প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এনসিপি মনে করছে, অজিত পাওয়ারকে হেনস্তা করে ফড়ণবিশ তথা পদ্ম শিবির আসলে জোট ভাঙার আভাস দিচ্ছে।