১,০০০ কিলোমিটার লম্বা এক সরলরেখার মতো নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়েছে, যা কার্যত বিরল। আবহাওয়া দফতরের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এই ধরনের খামখেয়ালি আচরণ বাড়ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 March 2026 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যালেন্ডার বলছে চৈত্র মাস। এদিকে আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে পাকিস্তান (Pakistan) হয়ে ভারত— প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘের চাদরে (1,000-Km Rain Band) ঢাকা পড়েছে তিন দেশ (Weather Report)। আবহাওয়াবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এক অদ্ভুত ‘রৈখিক’ পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (unusual weather), যার জেরে গ্রীষ্মের (Weather Update) শুরুতে হাঁসফাঁস গরমের বদলে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, কালবৈশাখী এবং শিলাবৃষ্টি (Weather Map)।
অস্বাভাবিক আবহাওয়া: কেন এই উদ্বেগ?
সাধারণত পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ঘুরে শীতকালে তুষারপাত ঘটায়। কিন্তু এবারের চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। সাধারণত শীতের শেষে ঝঞ্ঝার দাপট কমে এলেও, এবার মার্চের শেষে এসেও তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ১,০০০ কিলোমিটার লম্বা এক সরলরেখার মতো নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়েছে, যা কার্যত বিরল। আবহাওয়া দফতরের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এই ধরনের খামখেয়ালি আচরণ বাড়ছে।
ভারতের ওপর প্রভাব: সতর্কতা কোথায় কোথায়?
এই বিশালাকার মেঘপুঞ্জ ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তার প্রভাব দেখাতে শুরু করেছে। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, উত্তর-পশ্চিম ভারতে ব্যাপক বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া (ঘণ্টায় ৪০-৮০ কিমি) বইতে পারে। দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অসম-সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতেও দুর্যোগের পূর্বাভাস রয়েছে। কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা ও তামিলনাড়ুতেও ভারী বৃষ্টির দাপট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজস্থান, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশেও শিলাবৃষ্টির ভ্রুকুটি রয়েছে।
জলের উৎস কোথায়?
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই বিপুল জলীয় বাষ্প জমাট বেঁধেছে ভূমধ্যসাগর, কাস্পিয়ান সাগর, কৃষ্ণ সাগর এবং পারস্য উপসাগর থেকে। সেই বাষ্প যখন আরব দুনিয়ার ওপর দিয়ে ভারতের দিকে এগিয়েছে, তখন আরব সাগর থেকে আরও জলীয় বাষ্প টেনে নিয়ে তা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। হিমালয়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে এই মেঘপুঞ্জ এখন পাহাড় ও সমতলে বৃষ্টি ঝরাচ্ছে।
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, শুক্রবার পর্যন্ত এই দাপট চলবে। তবে স্বস্তির আশা ক্ষীণ। কারণ, ২২ মার্চ থেকে আরও একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ধেয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মার্চের শেষে যে কাঠফাটা রোদ আর গরমের দাপট দেখা দেওয়ার কথা ছিল, আপাতত তা মেঘ-বৃষ্টির আড়ালেই ঢাকা পড়ে থাকছে।