জয়পুরের বেসরকারি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু। পুলিশ আসার আগেই ঘটনাস্থল ধুয়েমুছে ‘প্রমাণ লোপাট’-এর অভিযোগ তুলল পরিবার।
.png.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 November 2025 07:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৯ বছরের একটা প্রাণ! সেই শিশুই এমন এক সিদ্ধান্ত নিল, যা কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা রাজস্থানকে। শনিবার দুপুরে জয়পুরের এক বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনার ফাঁকেই চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আমাইরা ঝাঁপ দিল স্কুলের পাঁচতলা থেকে। মুহূর্তের মধ্যে নিথর দেহ পড়ে রইল নিচে। ৪৭ ফুট উঁচু থেকে পড়ে সেখানেই মৃত্যু হয় তার। কেন এমন করল সে, এই প্রশ্নেই এখন গুঞ্জন গোটা শহরে।
আমাইরা ছিল মা-বাবার একমাত্র সন্তান। মা ব্যাংকে চাকরি করেন, বাবা একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। শনিবার সকালে মেয়েকে আগের মতোই হাসিমুখে স্কুলে পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পরেই ফোন আসে, স্কুলে দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা জানান, বাঁচানো যায়নি ছোট্ট মেয়েটিকে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, দুপুরবেলায় হঠাৎ আমাইরা স্কুলের পাঁচতলায় গিয়ে রেলিংয়ের ওপরে ওঠে। পাশে তখন আরও কয়েকজন পড়ুয়া ছিল, কিন্তু কেউই বুঝে উঠতে পারেনি কী ঘটতে চলেছে। মুহূর্তের মধ্যেই রেলিং থেকে নিচে ঝাঁপ দেয় সে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধরেই তদন্ত শুরু করেছে, যদিও মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, স্কুলের এক শিক্ষকের সঙ্গে কোনও ঘটনার জেরে হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল আমাইরা। সেই কারণেই কি এমন পদক্ষেপ? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। পুলিশ জানায়, তারা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখন স্কুল চত্বর, যেখান থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। পুরোপুরি ধুয়েমুছে ফেলা হয়েছে। রক্তের কোনও দাগ নেই, এমনকি জায়গাটি সাফ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। ফলে প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ তুলেছেন আমাইরার পরিবার।
মৃত্যুর ঘটনায় তাঁরা স্কুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, এটা আত্মহত্যা নয়। এই মৃত্যুর পেছনে অন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর একেবারে নীরব। সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রশ্নের উত্তর তারা দেয়নি। এমনকি জেলা শিক্ষা আধিকারিক রাম নিবাস শর্মা প্রিন্সিপালের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও, তিনি ফোন ধরেননি।
৯ বছরের এক খুদে পড়ুয়ার এমন মর্মান্তিক পরিণতি এখন প্রশ্ন তুলেছে, একটি শিশুর মনে এমন চাপ কেন? স্কুলের দেওয়ালের ভিতর লুকিয়ে থাকা সেই রহস্যের জট খুলবে কবে, সেটাই এখন সময়ের অপেক্ষা।