বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার দাবি করে আসছেন, রাজ্যের ভোটার তালিকায় বহু বাংলাদেশি মুসলিম এবং রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে।

দেবাংশু ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 2 November 2025 00:27
এসআইআরের (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে রাজ্যে (West Bengal)। আগামী ৪ তারিখ থেকে বাড়ি বাড়ি যাবেন বিএলও-রা। এই মুহূর্তে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল এই ইস্যুটিকেই কেন্দ্র করে। আর উত্তেজক পরিস্থিতির আগুনে আরও ঘি ঢাললেন তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)। প্রশ্ন তুললেন - বিজেপি (BJP) কি ভোটে জেতার জন্যই এসআইআর করছে?
না থাকবে বাঁশ, না বাজবে বাঁশি - নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং অমিত শাহদের (Amit Shah) টার্গেট এটাই! এসআইআর নিয়ে এমনই ধারণা ব্যক্ত করলেন তৃণমূল যুব নেতা (TMC)। তাঁর মতে, এসআইআর আদতে গরিবদের বঞ্চিত করবে, হিন্দুদের বোকা বানাবে। দেবাংশু বলছেন, ''ওরা বলছে এসআইআর হলে বিজেপি জিতবেই। তাহলে কি জেতার জন্যই এসআইআর করছে?'' দেবাংশুর এও দাবি, এনআরসি আর এসআইআর যে এক, তা প্রতি পদে প্রমাণ করে দিচ্ছে বিজেপি।
বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বারবার দাবি করে আসছেন, রাজ্যের ভোটার তালিকায় বহু বাংলাদেশি মুসলিম এবং রোহিঙ্গা (Rohingya) ঢুকে পড়েছে। অন্তত দেড় কোটি নাম বাদ যাবে এসআইআর হলে। এই দাবির পাল্টা দেবাংশুর বক্তব্য, ''গোটা বিশ্বে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৭ লক্ষ। আর শুভেন্দু বলছেন বাংলাতেই নাকি দেড় কোটি আছে। তাহলে মনে হয় শুভেন্দু নিজের বাড়িতে রোহিঙ্গা চাষ করছেন। আর বিজেপির পার্টি অফিস হচ্ছে তার কারখানা।''
বিএলও-রা যেদিন থেকে বাড়ি বাড়ি যাবেন সেই দিনই অর্থাৎ ৪ তারিখই এসআইআর ইস্যুতে পথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছেন, কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গেলেই বৃহত্তর আন্দোলন হবে। আর দেবাংশু বলছেন - নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ যদি সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনী রশ্মি হন, পশ্চিমবঙ্গ যদি আমাদের হাতের চামড়া হয়, তাহলে আমাদের ওজোন লেয়ারের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে খবর, ৪ তারিখ দুপুর দেড়টায় রেড রোডে বি আর আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত বিশাল মিছিল করবে শাসকদল (TMC)। মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
স্বভাবতই, ওই মিছিল থেকে মমতা-অভিষেক কী বার্তা সামনে আনেন, তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল তুঙ্গে। তৃণমূলের নেতৃত্বের বক্তব্য, এই মিছিলের মূল লক্ষ্য, “গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা দেওয়া এবং বিজেপির বিভাজনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।”