প্রথমে ভুবনেশ্বর, পরে দিল্লি এইমসে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। কিন্তু শেষরক্ষা করা গেল না। মৃত্যুর কাছে হার মানল নাবালিকা। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 August 2025 00:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনের আলোয় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ১৫ বছরের কিশোরীর গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা (Odisha 15 Year Old Death)। প্রথমে ভুবনেশ্বর, পরে দিল্লি এইমসে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। কিন্তু শেষরক্ষা করা গেল না। মৃত্যুর কাছে হার মানল নাবালিকা। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
গত ২০ জুলাই নির্যাতিতাকে ভুবনেশ্বর থেকে দিল্লির এইমসে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, কিশোরীর শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাঁকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়। তবে গত কয়েকদিন ধরেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষে শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কিশোরীর (Odisha 15 Year Old Death)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার সময় তিন দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে ওই নাবালিকাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তারপর নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জ্বলন্ত অবস্থাতেই কোনওক্রমে দুষ্কৃতীদের কবল থেকে পালিয়ে রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে আসে মেয়েটি। দুষ্কৃতীরা তখনই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।
নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে এইমস ভুবনেশ্বরে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ারলিফ্ট করে পাঠানো হয় দিল্লির এইমসে।
এই ঘটনা নিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, 'রাস্তায় দগ্ধ অবস্থায় দৌঁড়চ্ছিল কিশোরী। মুখে, গলায় বাঁধা কাপড়, হাত বাঁধা (Puri Minor Girl Set Afire Ran With Hands Tied)। সাহায্য চেয়ে ছুটে এসেছিল তাঁর বাড়ির দিকে (Her hands were tied and her mouth gagged)। মেয়েটি খুব কষ্টে বলছিল, ওকে তিনজন মিলে আগুন লাগিয়েছে।'
এই ঘটনার আগেই ওড়িশার বালেশ্বরে এক কলেজ ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছেন কলেজেরই এক অধ্যাপক। কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবাদে তিনি নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়েছিল তাঁর। ঘটনার কয়েকদিন পরই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার ঠিক পরপরই পুরীতে এই বর্বরতা।