পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল (শনিবার) বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার সময় তিন দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে ওই নাবালিকাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তারপর নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

গায়ে আগুন নিয়েই ছুটে বেড়াচ্ছে নাবালিকা
শেষ আপডেট: 20 July 2025 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরীতে ১৫ বছরের নাবালিকাকে গায়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনায় তোলপাড় গোটা ওড়িশায়। রাস্তায় দগ্ধ অবস্থায় দৌঁড়চ্ছে এক কিশোরী। মুখ গলায় বাঁধা কাপড়, হাত বাঁধা (Puri Minor Girl Set Afire Ran With Hands Tied)। সাহায্য চেয়ে ছুটে আসে এক বাড়ির দিকে (Her hands were tied and her mouth gagged)। তাকে সাহায্য করেন ওই বাড়ি মালিক দুখিশ্যাম সেনাপতি। ঠিক কী ঘটেছিল? নিজে চোখে দেখা ভয়াবহ দৃশ্যের বিবরণ দিলেন তিনি।
দুখিশ্যাম সেনাপতির কথায়, 'মেয়েটি আমার বাড়ির দিকে আগুনে জ্বলতে জ্বলতে দৌড়ে আসে। আমার স্ত্রী, মেয়ে এবং আমি মিলে আগুন নিভিয়ে ওকে জামাকাপড় দিই। তারপর মেয়েটিই জানায়, ও পাশের গ্রামে থাকে।'
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল (শনিবার) বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার সময় তিন দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে ওই নাবালিকাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তারপর নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জ্বলন্ত অবস্থাতেই কোনওক্রমে দুষ্কৃতীদের কবল থেকে পালিয়ে রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে আসে মেয়েটি। দুষ্কৃতীরা তখনই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।'
নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে এইমস ভুবনেশ্বরে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার তাঁকে এয়ারলিফ্ট করে পাঠানো হয়েছে দিল্লির এইমসে। নির্যাতিতার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে বলে জানা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী দুখিশ্যাম সেনাপতি জানান, 'মেয়েটি খুব কষ্টে বলছিল, ওকে তিনজন মিলে আগুন লাগিয়েছে। আমি ওর পরিবারকে খবর দিই। এরপর পুলিশকে ফোন করি। অপরাধীদের খুঁজেতে বেরিয়েছিলাম, কিন্তু তারা ততক্ষণে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে মেয়েটিকে আমরা প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাই, সেখান থেকে ভুবনেশ্বর এইমসে পাঠানো হয়।'
এই ঘটনার আগেই ওড়িশার বালেশ্বরে এক কলেজ ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছে কলেজেরই এক অধ্যাপক। কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবাদে তিনি নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়েছিল তাঁর। ঘটনার কয়েকদিন পরই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার ঠিক পরপরই ঘটল পুরীর এই বর্বরতা।
পুরীর দগ্ধ কিশোরীকে রবিবার দিল্লির এআইআইএমএসে নিয়ে যেতে ১২ মিনিটে ১১ কিলোমিটার রাস্তা ফাঁকা করে তৈরি করা হয়েছিল ‘গ্রীন করিডর’। ভুবনেশ্বরের এইমস থেকে বিজু পট্টনায়ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাওয়ার রাস্তায় গাড়ি চলাচলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
ভুবনেশ্বর এইমস-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অশ্বত্থোষ বিশ্বাস বলেন, 'রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল। গতকাল রক্তচাপ অনেকটাই কম ছিল, আজ তা কিছুটা উন্নত হয়েছে। তাই দিল্লিতে স্থানান্তর করা নিরাপদ। বর্তমানে মেয়েটি কথা বলতে পারছে। পুলিশ তার বয়ান রেকর্ড করেছে। তার মা অভিযোগ দায়ের করেছেন।'
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। দোষীদের খুঁজে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।