প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকালে অ্যাসেম্বলির সময় ইউনিফর্ম পরিদর্শন চলছিল। স্কুলে পড়ুয়ারা সঠিক নিয়ম মেনে এসেছে কিনা, সেইসব খতিয়ে দেখার সময় এক শিক্ষিকা দুই বোনের পোশাক এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তিরস্কার করেন। এই ঘটনাতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তারা।

ঘটনাস্থলে পুলিশ
শেষ আপডেট: 29 March 2026 20:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলে অগোছালো পোশাক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না হয়ে আসার জন্য বকেছিলেন শিক্ষিকা। তার জেরে অপমানিত বোধ করায় আত্মঘাতী হয়েছে ১০ বছরের এক ছাত্রী, এমনই অভিযোগ উঠেছে (teacher scolding 10 year old student suicide UP)। উত্তরপ্রদেশের কনৌজে এক মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রী কনৌজের রামপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল। তার ছোট বোন রয়েছে, সেও একই স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। শনিবার দু’জনেই প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিল।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকালে অ্যাসেম্বলির সময় ইউনিফর্ম পরিদর্শন চলছিল। স্কুলে পড়ুয়ারা সঠিক নিয়ম মেনে এসেছে কিনা, সেইসব খতিয়ে দেখার সময় এক শিক্ষিকা দুই বোনের পোশাক এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তিরস্কার করেন। এই ঘটনাতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তারা।
স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ে দুজন এবং মায়ের কাছে পুরো ঘটনাটি জানায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বড় বোনটি বাড়ির ভিতরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহ নিয়ে স্কুলের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন এবং কার্যত স্কুল ঘেরাও করে রাখেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় ব্লক এডুকেশন অফিসার এবং সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম)। প্রশাসনের তরফে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনাটি ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা - স্কুলে শাসনের সীমা কোথায়, কতটা মানসিক চাপের পড়লে কোনও শিশু এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে? এদিকে, মৃত ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষিকা, স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং আরও দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।