প্রাথমিক তদন্তে শৌচাগার থেকে সিরিঞ্জ, অ্যানাস্থেশিয়া জাতীয় ওষুধ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা কয়েকটি বোতল এবং বিষ থাকতে পারে বলে মনে করা কিছু প্যাকেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। চ্যাটজিপিটি-তেও তাঁরা প্রশ্ন করেছিলেন আত্মহত্যা কীভাবে করা যায় এবং কোন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

দুই তরুণী বহু বছর ধরে একে অপরকে চিনতেন
শেষ আপডেট: 8 March 2026 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের সুরাতে এক মন্দির চত্বরে শৌচাগারের ভিতর থেকে দুই তরুণীর দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অ্যানাস্থেশিয়ার ইনজেকশন উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ (Gujrat college students suicide in Temple washroom)।
তদন্তে আরও জানা গেছে, মৃত্যুর আগে ওই দুই তরুণী অনলাইনে মৃত্যুর উপায় সম্পর্কে খোঁজ করেছিলেন (online search about suicide)। এমনকি আত্মহত্যা কীভাবে করা যায় এবং কোন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-তেও প্রশ্ন করেছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।
মৃত দুই তরুণীর নাম রোশনি শরদ শিরসাথ (১৮) এবং জ্যোৎস্না অতুল চৌধুরী (২০)। তাঁরা ছোটবেলার বন্ধু এবং দু’জনেই কলেজছাত্রী।তাঁদের দেহ উদ্ধার হয় সুরাতের দিন্দোলি এলাকার আত্মিয়া সংস্কার ধাম স্বামীনারায়ণ মন্দির চত্বরে একটি শৌচাগারের ভিতর থেকে।
সকালেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৬ মার্চ সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ দুই তরুণী বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানতেন তাঁরা কলেজে যাচ্ছেন। কিন্তু এরপর আর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মন্দিরের কাছে তাঁদের স্কুটারটি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। এরপর মন্দির চত্বরে খোঁজ শুরু করা হয়।
ভিতর থেকে বন্ধ ছিল দরজা
মন্দির চত্বরে একটি শৌচাগারের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন দুই তরুণী অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার ইনজেকশন ও সন্দেহজনক বস্তু
এই ঘটনায় দিন্দোলি থানায় দুটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের সহকারী কমিশনার নীরব সিং গোহিল।
তিনি জানান, “স্বামীনারায়ণ মন্দিরের শৌচাগারের ভিতরে ১৮ ও ২০ বছর বয়সি দুই তরুণীকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।”
প্রাথমিক তদন্তে শৌচাগার থেকে সিরিঞ্জ, অ্যানাস্থেশিয়া জাতীয় ওষুধ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা কয়েকটি বোতল এবং বিষ থাকতে পারে বলে মনে করা কিছু প্যাকেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুই তরুণী হয়তো অ্যানাস্থেশিয়া জাতীয় কোনও পদার্থ ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করিয়েছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর।
ছোটবেলা থেকে বন্ধু
পুলিশ জানিয়েছে, দুই তরুণী বহু বছর ধরে একে অপরকে চিনতেন। প্রাথমিক স্কুল থেকেই তাঁরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন উদনার সিটিজেন কলেজে প্রথম বর্ষের বি.কমের ছাত্রী, অন্যজন ওয়াদিয়া উইমেন্স কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে বি.কম পড়ছিলেন।
মোবাইল ফোনে মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
পুলিশ দুই তরুণীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। ফোন পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাঁরা অনলাইনে আত্মহত্যার উপায় নিয়ে খোঁজ করেছিলেন। পুলিশের দাবি, চ্যাটজিপিটি-তেও তাঁরা প্রশ্ন করেছিলেন আত্মহত্যা কীভাবে করা যায় এবং কোন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
মন্দিরের শৌচাগারের বাইরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ দুই তরুণী একসঙ্গে শৌচাগারের ভিতরে ঢুকেছিলেন। তারপর তাদের আর বাইরে বের হতে দেখা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুই তরুণীর মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী পরিস্থিতি কাজ করেছিল, তা জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।