গত মঙ্গলবার আকাশে ওড়ানো হয় দু’টি বিমান। সেগুলো থেকে মেঘে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ড্রাই আইস, সিলভার আয়োডাইড, আয়োডাইজ়ড লবণ ও রক সল্ট। এই উপাদানগুলিই বৃষ্টির ফোঁটা (Artificial rain Delhi) তৈরি করতে সাহায্য করে। কিন্তু মেঘে যথেষ্ট আর্দ্রতা না থাকায় বৃষ্টি হয় খুবই সামান্য।

এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 30 October 2025 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দূষণের ধোঁয়ায় ঢেকে দিল্লি। দীপাবলির পর থেকেই সেই মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছে। এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার ভরসা রেখেছিল প্রযুক্তির উপরে। দিল্লির সরকার এবং আইআইটি কানপুরের যৌথ উদ্যোগে চলতি মাসেই তিনবার ক্লাউড সিডিং ট্রায়াল হয়েছে- ২৩ অক্টোবর একবার এবং ২৮ অক্টোবর দু'বার। কিন্তু কোথাও আশানুরূপ বৃষ্টি হয়নি। হলেও তা ছিটেফোঁটা! তবে এই তিনটি পরীক্ষার জন্য এখনও পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ১.০৭ কোটি টাকা।
আইআইটি কানপুরের ডিরেক্টর মণীন্দ্র আগরওয়ালের মতে, অক্টোবরের দুটি ট্রায়ালের খরচই প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা, যা গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ২০ হাজার টাকা করে। দিল্লি সরকার এই শীতে মোট ন'টি ট্রায়ালের জন্য ৩.২১ কোটি টাকার বাজেট রেখেছে। অর্থাৎ প্রতিবার ট্রায়ালের গড় খরচ প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকারও বেশি।
বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে কারণ মেঘ বপন বা ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য ব্যবহৃত বিমান কানপুর থেকে উড়াতে হয়, যার রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলটের ফি ও জ্বালানির খরচই বিপুল। তাঁর দাবি, যদি এই কাজ সরাসরি দিল্লি থেকেই করা যায় এবং পুরো শীতকাল ধরে চালানো হয়, তবে খরচ কিছুটা কমতে পারে। তবে তিনি এ-ও বলেন, পুরো শীতকালের জন্য প্রকল্পটি চালাতে গেলে খরচ দাঁড়াবে ২৫-৩০ কোটি টাকার মতো।
যদিও দিল্লির মোট দূষণ নিয়ন্ত্রণ বাজেট প্রায় ৩০০ কোটি টাকা, তবু কয়েকজন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অস্থায়ী সমাধানের জন্য এত বিপুল অর্থ খরচ 'যুক্তিসঙ্গত নয়।
গত মঙ্গলবার আকাশে ওড়ানো হয় দু’টি বিমান। সেগুলো থেকে মেঘে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ড্রাই আইস, সিলভার আয়োডাইড, আয়োডাইজ়ড লবণ ও রক সল্ট। এই উপাদানগুলিই বৃষ্টির ফোঁটা (Artificial rain Delhi) তৈরি করতে সাহায্য করে। কিন্তু মেঘে যথেষ্ট আর্দ্রতা না থাকায় বৃষ্টি হয় খুবই সামান্য। এর কারণ হিসেবে মনীন্দ্র আগরওয়াল বলেছেন, “এটা কোনও ম্যাজিক নয়, দূষণ কমানোর একটি বিকল্প পদ্ধতি মাত্র। মেঘে আর্দ্রতা ছিল মাত্র ১৫-২০ শতাংশ। এত কম আর্দ্রতায় বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে না।”
তবে দিল্লির বিজেপি সরকারের দাবি, ক্লাউড সিডিংয়ের পর বাতাসের গুণমানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ময়ূরবিহার, করোলবাগ ও বুরারিতে বায়ুতে মিশে থাকা সূক্ষ কণা PM2.5 স্তর সিডিংয়ের আগে যথাক্রমে ২২১, ২৩০ ও ২২৯ ছিল, যা কমে দাঁড়ায় ২০৭, ২০৬ ও ২০৩-এ। একইভাবে PM10 স্তরও কিছুটা কমেছে। পরীক্ষার পরে বিকেল নাগাদ নয়ডায় ০.১ মিমি এবং গ্রেটার নয়ডায় ০.২ মিমি বৃষ্টিও রেকর্ড করা হয়।
অন্যদিকে, দিল্লির মতোই ধোঁয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে কলকাতাও। বাতাসে বিষ, আকাশে ধোঁয়ার পরত। দূষণ মাপার সূচকে দিল্লির পিছু পিছু তিলোত্তমাও এখন ভয়াবহ সংকেতের দিকে এগোচ্ছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, দীপাবলির পর থেকেই শহরজুড়ে ঝুলছে এক অদ্ভুত ধোঁয়া। বাতাসে ঘন ধূলিকণা, অনেকেরই গলায় কাঁটা ভাব, চোখে জ্বালা।