মঙ্গলবার আইআইটি কানপুর (IIT Kanpur cloud seeding) ও দিল্লি সরকারের যৌথ উদ্যোগে আকাশে ওড়ানো হয় দু’টি বিমান। সেগুলো থেকে মেঘে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ড্রাই আইস, সিলভার আয়োডাইড, আয়োডাইজ়ড লবণ ও রক সল্ট।
.jpg.webp)
দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম মেঘ
শেষ আপডেট: 29 October 2025 08:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীপাবলির পর থেকেই দিল্লির আকাশ ঢেকে গেছে ধোঁয়ায়, বাতাসে মিশে গেছে বিষাক্ত কণা। এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার ভরসা রেখেছিল প্রযুক্তির উপরে। তাই আইআইটি কানপুরের সহায়তায় করা হয় ‘ক্লাউড সিডিং’ বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের পরীক্ষা (Delhi cloud seeding)। আশা ছিল- ঝেঁপে বৃষ্টি নামলে ধুলোকণা ধুয়ে যাবে, কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন রাজধানীর বাসিন্দারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশায় জল ঢালল প্রযুক্তির ব্যর্থতা! বৃষ্টি হল ছিটেফোঁটা মাত্র।
মঙ্গলবার আইআইটি কানপুর (IIT Kanpur cloud seeding) ও দিল্লি সরকারের যৌথ উদ্যোগে আকাশে ওড়ানো হয় দু’টি বিমান। সেগুলো থেকে মেঘে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ড্রাই আইস, সিলভার আয়োডাইড, আয়োডাইজ়ড লবণ ও রক সল্ট। এই উপাদানগুলিই বৃষ্টির ফোঁটা (Artificial rain Delhi) তৈরি করতে সাহায্য করে। কিন্তু মেঘে যথেষ্ট আর্দ্রতা না থাকায় বৃষ্টি হয় খুবই সামান্য। আইআইটি কানপুরের ডিরেক্টর মনীন্দ্র আগরওয়াল বলেন, “এটা কোনও ম্যাজিক নয়, দূষণ কমানোর একটি বিকল্প পদ্ধতি মাত্র। মেঘে আর্দ্রতা ছিল মাত্র ১৫-২০ শতাংশ। এত কম আর্দ্রতায় বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে না।”
তিনি আরও জানান, “এখনও পর্যন্ত তেমন বৃষ্টি না হলেও আমরা আত্মবিশ্বাসী। বুধবার আরও দু’টি বিমানের মাধ্যমে নতুন ট্রায়াল হবে।” তাঁর মতে, ক্লাউড সিডিং দূষণ কমানোর সাময়িক ব্যবস্থা, স্থায়ী সমাধান নয়। দূষণের আসল উৎস খুঁজে তা বন্ধ করলেই পরিস্থিতি বদলাবে।
তবে দিল্লির বিজেপি সরকারের দাবি, ক্লাউড সিডিংয়ের পর বাতাসের গুণমানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ময়ূরবিহার, করোলবাগ ও বুরারিতে বায়ুতে মিশে থাকা সূক্ষ কণা PM2.5 স্তর সিডিংয়ের আগে যথাক্রমে ২২১, ২৩০ ও ২২৯ ছিল, যা কমে দাঁড়ায় ২০৭, ২০৬ ও ২০৩-এ। একইভাবে PM10 স্তরও কিছুটা কমেছে। পরীক্ষার পরে বিকেল নাগাদ নয়ডায় ০.১ মিমি এবং গ্রেটার নয়ডায় ০.২ মিমি বৃষ্টিও রেকর্ড করা হয়।
সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছে, “পরীক্ষা পুরোপুরি সফল না হলেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। দূষণের মাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।” তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউড সিডিং শুধু অস্থায়ী স্বস্তি দিতে পারে। দিল্লিকে দূষণমুক্ত করতে হলে প্রয়োজন আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
দিল্লির ফি-বছরের বায়ুদূষণের দুর্ভোগ শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়ালি থেকেই। অতি খারাপ থেকে খারাপ স্তরে উঠেছে দূষণের সূচক। বায়ুদূষণের মাত্রা কমাতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, দিল্লি ও এনসিআর এলাকায় কৃত্রিম মেঘ তৈরি করে বৃষ্টি নামানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কৃত্রিম মেঘসঞ্চারের সম্ভাবনা রয়েছে সন্ধ্যাতেও। ২৮-৩০ অক্টোবর দিল্লির বায়ুদূষণ ঠেকাতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হতে পারে।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সূচক অনুযায়ী ০-৫০ পর্যন্ত হল ‘উত্তম’। ৫১-১০০ হল ‘সন্তোষজনক’। ১০১-২০০ পর্যন্ত সূচককে ‘মধ্যম’। ২০১-৩০০-র মধ্যে থাকলে তা ‘মন্দ’। ৩০১-৪০০ হচ্ছে ‘অতি মন্দ’ এবং ৪০১-৫০০ হল ‘বিপজ্জনক’ স্তরের দূষণমাত্রা। সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি সরকার আইআইটি কানপুরের সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করেছিল পাঁচটি কৃত্রিম মেঘসঞ্চারের বিষয়ে। আইআইটি কানপুরেরই অধীনে মিরাটে একটি বিশেষ বিমান রয়েছে। যাতে কৃত্রিম মেঘসঞ্চারের যাবতীয় সামগ্রী ভরা রয়েছে পরীক্ষামূলক কাজের জন্য।