এসআইআরের কাজের চাপে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন রায়দিঘির এক বিএলও। প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই ব্রেন স্ট্রোকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তিনি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 January 2026 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে এসআইআর (Special Intensive Revision)-এর কাজ প্রায় শেষের মুখে। এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) বিলির পর্ব ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এখন চলছে শুনানি পর্ব (Hearing Process)। কিন্তু শেষ হচ্ছে না আতঙ্ক। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে বিক্ষিপ্ত ভাবে সামনে আসছে অশান্তির খবর। কোথাও এসআইআর-এর ভয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ, কোথাও আবার কাজের চাপেই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা। ঠিক তেমনই এক উদ্বেগজনক ছবি ধরা পড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি (Raidighi) এলাকায়।
এসআইআর-এর কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক বিএলও (BLO)। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ওই কর্মী। পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন এই সব কাজ নিয়ে। সেখান থেকেই এই অবস্থা।
অসুস্থ ওই বিএলওর নাম মেহবুব রহমান মোল্লা (Mahbub Rahman Molla), বয়স ৫২। তিনি মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকের (Mathurapur II Block) ১১০ নম্বর বুথের (Booth No. 110) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পেশায় তিনি স্থানীয় গৌরীপুর (Gouripur) এলাকার একটি স্কুলের শিক্ষক। কমিশনের নির্দেশ মেনে ভোটার তালিকা সংশোধনের অংশ হিসেবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলির কাজ সম্পন্ন করেছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুরু হয় শুনানি পর্ব। সেই সময় মেহবুবের বুথের একাধিক ভোটারের কাছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)-এর তরফে শুনানির নোটিস পৌঁছয়। পরিবারের অভিযোগ, এই নোটিস ঘিরেই শুরু হয় মানসিক চাপ। ভোটারদের প্রশ্ন, আপত্তি এবং প্রশাসনিক দায়— সব মিলিয়ে কয়েক দিন ধরেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন মাহবুব।
শনিবার পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের জানান, তাঁর শরীর ভাল লাগছে না। দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে (Diamond Harbour District Hospital)। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন স্ট্রোকে (Brain Stroke) আক্রান্ত হয়েছেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তড়িঘড়ি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন।
পরিবারের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত কাজের চাপ এবং শুনানি পর্ব ঘিরে তৈরি হওয়া মানসিক দুশ্চিন্তাই মেহবুবের এই শারীরিক অবস্থার জন্য দায়ী। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানসিক চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছিল। বিশ্রামের সুযোগ ছিল না বললেই চলে।
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে এসআইআর প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে। মাঠপর্যায়ে কাজ করা বিএলও-দের উপর চাপ কতটা বেড়েছে, সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। ভোটার তালিকা সংশোধন যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, তা মানছেন সবাই। কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়ে যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে, তা হলে গোটা ব্যবস্থার মানবিক দিক নিয়েও নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
রায়দিঘির এই ঘটনা আপাতত আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, কাগজে-কলমে প্রক্রিয়া শেষের পথে হলেও, এসআইআর-এর বাস্তব প্রভাব এখনও কতটা গভীর।