গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জোর দেওয়া হয়েছে শিক্ষকতার পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং ক্লাস নেওয়ার দক্ষতার উপরে। বলা হয়েছে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে ৬০ নম্বরের। আগে এটি ছিল ৫৫ নম্বরের। শিক্ষাগত যোগ্যতার উপরে থাকবে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর। আগে এটি ছিল ৩৫ নম্বর।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 5 June 2025 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) ২০২৫ সালের নতুন বিধিকে (SSC New Recruitment) চ্যালেঞ্জ করে আগেই মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court)। দাবি করা হয়েছে, এসএসসির নতুন বিধি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশের পরিপন্থী। বৃহস্পতিবার ওই মামলার শুনানি রয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের।
অন্যদিকে যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ এবং যোগ্যদের স্কুলে ফেরানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার ফের পথে নামতে চলেছে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডির চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীরা। গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের জন্য রাজ্যের তরফে এপ্রিল থেকে ভাতা ঘোষণা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য যোগ্যদের কাজে ফেরানো নিশ্চিত করতে হবে। সেই দাবিতেই এদিন ফের করুণাময়ী থেকে মিছিল করে বিকাশভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন চাকরিহারা গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি'র কর্মীরা। পুলিশের তরফে অবশ্য অনুমতি মেলেনি। তবে মিছিল হবেই বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে এসএসসির ২০১৬ সালের গোটা প্যানেলটাই বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ৩১ মে'র মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। আদালতের নির্দেশ মেনে গত ৩০ মেরাজ্যের তরফে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য নতুন বিধি প্রকাশ করা হয়।
গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জোর দেওয়া হয়েছে শিক্ষকতার পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং ক্লাস নেওয়ার দক্ষতার উপরে। বলা হয়েছে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে ৬০ নম্বরের। আগে এটি ছিল ৫৫ নম্বরের। শিক্ষাগত যোগ্যতার উপরে থাকবে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর। আগে এটি ছিল ৩৫ নম্বর।

ইন্টারভিউয়ের ক্ষেত্রে নম্বর আগেও সর্বোচ্চ ১০ ছিল, এখনও তা-ই রাখা হয়েছে। শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার উপর দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর। এ ছাড়া 'লেকচার ডেমোস্ট্রেশন'-এর জন্যও সর্বোচ্চ ১০ নম্বর রাখা হয়েছে। শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং 'লেকচার ডেমোস্ট্রেশন', এই দু'টিই নতুন সংযোজিত হয়েছে। যার সমন্বয়ে সর্বোচ্চ মোট ২০ নম্বর রাখা হয়েছে।
গেজেটে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারির হিসাবে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়োগের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন চাকরিপ্রার্থীরা। এ ছাড়া, তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং অন্য অনগ্রসর শ্রেণির চাকরিপ্রার্থীরা রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুসারে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় পাবেন।
বিধি অনুসারে, প্যানেল এবং ওয়েটিং লিস্টের মেয়াদ থাকবে প্রথম কাউন্সেলিংয়ের পর থেকে এক বছর পর্যন্ত। যদিও এও বলা হয়েছে যে, কমিশন চাইলে রাজ্য সরকারের আগাম অনুমতি নিয়ে সেগুলিরও মেয়াদ আরও ৬ মাস বৃদ্ধি করতে পারবে।
আর স্কুল সার্ভিস কমিশনের এই নয়া বিধিকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা দায়ের হ/েছে কলকাতা হাইকোর্টে। মামলাকারীর বক্তব্য, 'বিষয়টা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী। অযোগ্যদের বাঁচাতে চাইছে সরকার।' শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সব মহলে।