সোমবার সকালে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা-চান্ডিল শাখার বরাভূম স্টেশনে ট্রেনের ভিতরেই প্রাণ হারালেন এক মহিলা (Woman Death in Purulia)। অভিযোগ, মৃত্যুর পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁর দেহ পড়ে থাকলেও রেলের পক্ষ থেকে কোনও চিকিৎসা বা সহায়তা মেলেনি।

স্টেশনেই মৃতদেহ আগলে বসে রইলেন যুবক
শেষ আপডেট: 27 August 2025 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে সংসার চালাতেন তাঁরা। ভাঙা বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করাই ছিল জীবিকার একমাত্র উপায়। সেই অভাবী সংসারেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। সোমবার সকালে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা-চান্ডিল শাখার বরাভূম স্টেশনে ট্রেনের ভিতরেই প্রাণ হারালেন এক মহিলা (Woman Death in Purulia)। অভিযোগ, মৃত্যুর পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁর দেহ পড়ে থাকলেও রেলের পক্ষ থেকে কোনও চিকিৎসা বা সহায়তা মেলেনি। উল্টে মৃতার স্বামীকে দেহ সরানোর জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
মৃতার নাম শান্তা কর্মকার। তাঁর স্বামী মনোজ কর্মকার জানিয়েছেন, তাঁরা ঝাড়খণ্ডের কাঁন্দ্রা স্টেশন থেকে গোমো ট্রেনে ফিরছিলেন। পথে তাঁর স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে বরাভূম স্টেশনে নামানো হলেও সেখানেই মৃত্যু হয়। ভগ্নস্বরে তিনি বলেন, 'আমার স্ত্রী ট্রেনেই মারা গেল। ওকে বাঁচাতে পারলাম না। রেলের কেউই এগিয়েও এল না।'
ঘটনার পর দীর্ঘ ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে স্ত্রীর দেহ আগলে বসে থাকেন মনোজ (Woman Death in Purulia)। পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, রেলের উদাসীনতায় মৃতার মর্যাদাও রক্ষা হল না। এমনকি স্টেশন ম্যানেজার এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতেও রাজি হননি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত দম্পতি পুরুলিয়ায় বোতল কুড়িয়ে তা বিক্রি করতেন। এটাই রোজগারের একমাত্র রাস্তা তাঁদের। ঘটনার খবর পেয়ে পুরুলিয়া জিআরপি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। রিপোর্ট এলে শান্তা কর্মকারের মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ।