দেশরাজের পরিবার ২০১৫ সাল থেকে হরিণঘাটায় ভাড়া বাড়িতে থাকছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দেশরাজ খুব একটা মিশুকে ছিল না। বরং রগচটা স্বভাবের জন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গেও দূরত্ব বজায় রাখত।

কৃষ্ণনগর ছাত্রী-খুন
শেষ আপডেট: 27 August 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষ্ণনগরে কলেজ ছাত্রী ঈশিতা মল্লিকে খুনের ঘটনায় সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য (Krishnanagar Student Murder)। অভিযুক্ত দেশরাজ সিং, খুনের আগের দিন অর্থাৎ রবিবারই তাঁর বাবাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি উত্তরপ্রদেশের বাড়িতে যাচ্ছেন। টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রা আর হয়নি। পরদিনই কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar Murder Case) মানিকপাড়ায় তরুণীর বাড়িতে ঢুকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ দেশরাজের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তর বাবা রঘুবিন্দর প্রতাপ সিং পেশায় বিএসএফ জওয়ান (BSF Jawan)। বর্তমানে রাজস্থানের জয়সলমির সীমান্তে তাঁর পোস্টিং রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, '২৪ তারিখ ছেলে ফোনে জানায় ট্রেনে উঠেছে। বলছিল ফোনে সমস্যা হচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম দীপাবলিতে ওকে নতুন ফোন কিনে দেব। কিন্তু পরদিন থেকে নম্বর বন্ধ পাই।' রঘুবিন্দর আরও বলেন, 'ছেলের সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তা হতো না। তবে দোষ করলে সে আমার ছেলে হোক বা আমি, শাস্তি হওয়া উচিত।'
মা পুনম সিংও একই দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, 'ছেলের খুনের অভিযোগ সম্পর্কে কিছু জানি না। মেয়েটিকে আমরা চিনতাম না। শুধু জানি, ২৪ তারিখ ছেলের ট্রেনে ওঠার কথা ছিল।'
দেশরাজের পরিবার ২০১৫ সাল থেকে হরিণঘাটায় ভাড়া বাড়িতে থাকছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দেশরাজ খুব একটা মিশুকে ছিল না। বরং রগচটা স্বভাবের জন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গেও দূরত্ব বজায় রাখত। অনেকেই তাঁকে মা ও বোনের সঙ্গে ঝগড়া করতে শুনেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার কৃষ্ণনগরে ওই কলেজছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দেশরাজ। পরিবারের সদস্যদের বন্দুকের ভয় দেখিয়ে দোতলায় উঠে যান। ঈশিতাকে সামনে পেয়ে পয়েন্ট ব্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করেন তাঁকে (Krishnanagar Murder Case)। ঘটনাস্থলেই তরুণীর মৃত্যু হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃতার শরীরে তিনটি গুলির ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। প্রেমের সম্পর্কে টানাপড়েনের জন্যই খুন হতে হয়েছে তরুণীকে, এমনটাই অনুমান পুলিশের। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। পলাতক অভিযুক্তর খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।