সুপ্রিম কোর্টের এই ব্যাখ্যা শুধু কামদুনিই নয়, আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারের কাছেও নতুন ভরসা হয়ে উঠেছে। তাঁদেরও বিশ্বাস, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার সুবিচারের পথ খুলছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 August 2025 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের আশা ফের জেগে উঠেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিচার পাওয়ার লড়াই চালিয়ে আসছেন তাঁরা। বারবার হতাশ হলেও এবার তাঁদের হাতে ধরা দিয়েছে নতুন ভরসা। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় জানিয়েছে, কোনও অভিযুক্ত আদালতে খালাস পেলে শুধু রাজ্য বা মামলাকারী নয়, ভুক্তভোগী কিংবা তাঁর পরিবারও সেই রায়ের বিরুদ্ধে ফের আবেদন জানাতে পারবেন। এই নজিরবিহীন নির্দেশে নতুন করে আন্দোলনের শক্তি ফিরে পাচ্ছেন কামদুনির মানুষজন।
২০১৩ সালের ৭ জুন কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে গণধর্ষণের পর খুন হয়েছিলেন কামদুনির তরুণী। ২০১৬ সালে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট তিন জনকে ফাঁসি এবং আরও তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে পরে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে পরিবর্তন আনে। এক জনকে খালাস করে দেওয়া হয়, দুই জনের ফাঁসি কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয় এবং তিন জনের যাবজ্জীবন মকুব করা হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। এবার ভুক্তভোগীর পরিবারও সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নিতে পারবে।
স্থানীয় আন্দোলনকারীরা বলছেন, এত দিন ধরে কঠিন পথ অতিক্রম করেছেন তাঁরা। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশ নতুন আশার আলো জোগাচ্ছে।
কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ প্রদীপ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ চলছে। শিগগিরই পরিবার ও আন্দোলনকারীরা বসে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন। লড়াইয়ের অন্যতম পরিচিত মুখ টুম্পা কয়ালের কথায়, ‘দশ বছরের লড়াইয়ে অনেক প্রতিকূলতা এসেছে। কিন্তু হাল ছাড়িনি। এবার আবার নতুন করে বিশ্বাস হচ্ছে যে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।’
বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিযুক্ত যেমন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন, তেমনই নির্যাতিত বা তাঁর পরিবারও পারেন। এমনকি ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলেও তাঁর উত্তরাধিকারীরা আবেদন করার অধিকার রাখেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই ব্যাখ্যা শুধু কামদুনিই নয়, আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারের কাছেও নতুন ভরসা হয়ে উঠেছে। তাঁদেরও বিশ্বাস, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার সুবিচারের পথ খুলছে।