বেঞ্চ জানায়, মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি ঘোষণার আগে আদালতকে অবশ্যই অভিযুক্তের সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সংশোধনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 26 August 2025 14:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত না হলে, মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা (Overturns) করা যেতে পারে। এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। এই প্রেক্ষিতেই এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মামলায় (Rape Murder Convict) মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা স্থগিত করে নতুন করে শুনানির নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
ঘটনাটি ২০১৭ সালের। চার বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ভাসন্ত সম্পত দুপারে-কে মৃত্যুদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। সেই রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টও। কিন্তু এবার ওই আসামির দাখিল করা আর্টিকেল ৩২-এর আবেদন খতিয়ে দেখে নতুন দিশা দেখাল দেশের শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, সঞ্জয় কড়োল এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানায়, মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি ঘোষণার আগে আদালতকে অবশ্যই অভিযুক্তের সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সংশোধনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে হবে।
২০২২ সালে দেওয়া মনোজ বনাম মধ্যপ্রদেশ রাজ্য মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছিল, মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার আগে এই সমস্ত বিষয় খুঁটিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক। দুপারে-র মামলায় তা হয়নি বলেই অভিযোগ। সেই কারণেই নতুন শুনানির নির্দেশ দিল আদালত।
রায়ে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড ‘বিরলতমের থেকে বিরল’ ঘটনার ক্ষেত্রে দেওয়া যায়। কিন্তু সেটি কখনওই যান্ত্রিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আদালতের বক্তব্য, প্রতিটি মানুষ সংবিধানের আর্টিকেল ১৪ ও ২১ অনুসারে ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারের দাবিদার। তাই মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি ঘোষণার আগে সব দিক বিবেচনা করা আবশ্যক।
শীর্ষ আদালতের এই রায়কে ঐতিহাসিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শুধু ভবিষ্যতের মামলাই নয়, অতীতের মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত মামলাগুলিও এ বার নতুন করে বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবে। আদালত স্পষ্ট করেছে - কেবলমাত্র সেই সব ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা হবে, যেখানে নতুন নির্দেশিকা মানা হয়নি।
বিচারপতিদের মন্তব্য, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে একজন মানুষের জীবনই শেষ হয়ে যায়, তাই বিচার প্রক্রিয়ায় সামান্যতম ত্রুটিও বরদাস্ত করা যাবে না। এই রায় কার্যত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের জন্য নতুন আশার আলো জ্বালল।