চাকরিহারা দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের কথায়, আর পাঁচজন সাধারণ পরীক্ষার্থীর মতো দৃষ্টিহীনরা পরীক্ষা দিতে পারেন না। তাঁদের পরীক্ষা দিতে গেলে একজন শ্রোতার প্রয়োজন হয়।

সাংবাদিক বৈঠকে দৃষ্টিহীন শিক্ষকরা।
শেষ আপডেট: 4 June 2025 13:12
নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে (Recruitment Corruption) স্কুল সার্ভিস কমিশনের (School Service Commission) ২০১৬ সালের আস্ত প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিমকোর্ট (Supreme Court)। যার জেরে চাকরিহারা প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। তবে পুরো প্যানেল বাতিল করলেও মানবিকতার খাতিরে ক্যানসার আক্রান্ত সোমা দাসের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
একইভাবে তাঁদের ক্ষেত্রেও সরকার কেন মানবিক হবে না, সেই প্রশ্ন তুলে এবার পথে নামলেন দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষম চাকরিহারা শিক্ষকরা (SSC Deprived Blind Teachers)।
এদিন অল বেঙ্গল ব্লাইন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের এর সভাপতি (All Bengal blind teachers association) তাপস রায় বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যে ২০১৬ এর প্যানেল বাতিল হয়েছে তার মধ্যে আমাদের দৃষ্টিহীন ৭০জনের বেশি শিক্ষক যোগ্য হয়েও চাকরিহারা। আমরা চায় সোমার মতো আমাদের বিষয়টিও সরকার মানবিক দিক থেকে দেখুক।"
এ ব্যাপারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, এসএসসির চেয়ারম্যানের পাশাপাশি শিক্ষাসচিবকেও চিঠি দিচ্ছেন তাঁরা। চাকরিহারা দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের কথায়, আর পাঁচজন সাধারণ পরীক্ষার্থীর মতো দৃষ্টিহীনরা পরীক্ষা দিতে পারেন না। তাঁদের পরীক্ষা দিতে গেলে একজন শ্রোতার প্রয়োজন হয়। ফলে পুনরায় পরীক্ষায় বসা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তাঁদের চাকরিতে বহাল রাখার বিষয়টি মানবিক দিক থেকে দেখতে হবে।
প্রসঙ্গত, গোটা প্যানেল বাতিল করার পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদেশ মেনে ইতিমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজ্য। সেখানে চাকরিহারা শিক্ষকদের বয়স ও অভিজ্ঞতার নিরিখে বাড়তি সুবিধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু দৃষ্টিহীন চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য সরকারের তরফে আলাদা করে কোনও কিছুর উল্লেখ করা হয়নি।
এ ব্যাপারেই বড়় প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিহারা দৃষ্টিহীন শিক্ষকরা। চাকরিহারা দৃষ্টিহীন শিক্ষিকা অর্পণা মজুমদার বলেন, "যোগ্যতার নিরিখেই আমরা চাকরি পেয়েছিলাম। রাজ্যের ভুলে সেই চাকরি চলে গেল। নতুন করে তিনমাসের মধ্যে কীভাবে পরীক্ষায় বসব? আমরা যদি রাইটার ঠিক না পাই, যদি ফেল করি, তার দায় কে নেবে?"
আর এক দৃষ্টিহীন চাকরিহারা শিক্ষক সোমনাথ নিয়োগী বলেন, "সরকার এবং আদালত আমাদের বিষয়টি মানবিক দিক থেকে না দেখলে ধরে নিতে হবে আমাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল।"
তাঁদের অভিযোগ, এ ব্যাপারে বারংবার চিঠি দেওয়ার পরও রাজ্য কোনও কর্ণপাত করছে না। সে কারণেই আজকের অবস্থান। এদিন ফের নিজেদের দাবির কথা রাজ্যের শিক্ষাসচিবকে তাঁরা জানাবেন। সমস্যা সমাধানে রাজ্য পদক্ষেপ না করলে বাধ্য হবেন বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করতে।