গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে স্থানীয় জনমানসেও।

এখানেই ছিল অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি।
শেষ আপডেট: 3 June 2025 20:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো তথা প্রখ্যাত শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের বাড়ি (Abanindranath Tagore's house)! এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে (role of the administration) বড় প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং দলের আইটি সেলের ইনচার্জ অমিত মালব্য।
এ ব্যাপারে টুইটে বিজেপির রাজ্য সভাপতি লিখেছেন, "এটা কি নিছকই একটি বাড়ি ভাঙা? না, এটা ইতিহাসকে ধ্বংস করা, একটি স্মৃতিকে অপমান করা, সর্বোপরি বাঙালি জাতিসত্ত্বার আত্মপরিচয় মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা। যে পশ্চিমবঙ্গ একদিন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হিন্দু বাঙালির সম্ভ্রম, সংস্কৃতি রক্ষার জন্য তৈরি করেছিলেন, সেই পশ্চিমবঙ্গেই আজ হিন্দু সাংস্কৃতিক গর্ব ক্রমশ ধূলিসাৎ করা হচ্ছে। এই অমার্জনীয় ঘটনা শুধু লজ্জাজনকই নয় সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য অপমানজনক।'
শান্তিনিকেতনে বিশ্ববরেণ্য চিত্র শিল্পী এবং বিশিষ্ট লেখক অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি ভেঙে ফেলা হলো। এই চূড়ান্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা শুধুমাত্র একজন শিল্পীর স্মৃতি ধ্বংস করে দেওয়া নয়, সমগ্র বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক চেতনার উপর আঘাত!
ইনিই হলেন সেই অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যাঁর অঙ্কিত… pic.twitter.com/saZIRPSde8— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) June 3, 2025
টুইটে সুকান্ত এও লিখেছেন, 'সংস্কৃতিপ্রেমী, শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রত্যেকের জেগে ওঠার সময় এখনই — নয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একদিন শুধুই ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাবে'।
বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় আচার্য ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ। তাঁর নামানুসারেই শান্তিনিকেতনের ওই জায়গার নাম হয় ‘অবনপল্লী’। সেই ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিবিজড়িত ‘আবাস’ নামক বাড়িটি রবিবার ভেঙে ফেলা হয়েছে। সূত্রের খবর, পরে ঠাকুর পরিবার ওই বাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছিল। সম্প্রতি সেটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। তখনই বোলপুর পুরসভার তরফে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। রবিবার কীভাবে সেই বাড়ি ভেঙে ফেলা হল তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বিজেপির অভিযোগ, ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূলের ইন্ধন রয়েছে।
Today, both Hindus and their most revered cultural icon, Gurudev Rabindranath Tagore, find themselves under siege — not just in Bangladesh, but in West Bengal itself.
This is a betrayal of the very purpose for which Dr. Syama Prasad Mookerjee ensured the creation of West Bengal… pic.twitter.com/wxwj1vfThi— Amit Malviya (@amitmalviya) June 3, 2025
এ ব্যাপারে টুইটে বিজেপির বাংলার আইটি সেলের ইনচার্জ অমিত মালব্যর কটাক্ষ, 'বাংলাদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দুরা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার, তাই তো অবলীলায় এখানে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারের স্মৃতিকেও ধ্বংস করা যায়।"
গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে স্থানীয় জনমানসেও। তবে এ ব্যাপারে বোলপুর পুরসভার
চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।