শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও মৌসুমী মণ্ডলকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না কেন, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে বলা হয়েছে কমিশনকে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 23 June 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ কেন বন্ধ? স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) ভূমিকা নিয়ে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)এই সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতেআদালতের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এসএসসিকে।
আদালত সূত্রে খবর, ২০১৬ সালে নবম-দশম শ্রেণির কর্মশিক্ষা ও শারীরিক শিক্ষা এবং উচ্চ প্রাথমি, উভয় পরীক্ষায় সফল হন মৌসুমী মণ্ডল। নবম-দশম শ্রেণিতে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর, ২০২২ সালে কর্মশিক্ষা ও শারীরিক শিক্ষার জন্য তৈরি হওয়া সুপারনিউমারারি পদের জন্য তাঁকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সে সময় তিনি কর্মরত থাকায় ওই পদে যোগ দিতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁর নবম-দশম শ্রেণির চাকরি বাতিল হয়। এর পর তিনি এসএসসি-র কাছে কর্মশিক্ষার শূন্যপদে পুনরায় নিয়োগের আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মৌসুমী।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে, মৌসুমীর আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী অভিযোগ করেন, এসএসসি-র গাফিলতিতে তাঁর মক্কেলের চাকরি হাতছাড়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কর্মশিক্ষার শূন্যপদে মৌসুমী মণ্ডলকে নিয়োগ দেওয়া ন্যায়সঙ্গত।
এসএসসি-এর আইনজীবী আদালতে জানান, সংশ্লিষ্ট প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০ সালে এবং মামলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ রয়েছে। তবে বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “প্যানেল ২০২০ সালে শেষ হলে ২০২২ সালে কাউন্সেলিং হল কী ভাবে?”
এই বিষয়ে আগামী ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি-কে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও মৌসুমী মণ্ডলকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না কেন, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে বলা হয়েছে কমিশনকে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, আইনজটের কারণে মৌসুমীর মতো অনেক চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুলে আছে। এসএসসি-র এই অচলাবস্থা নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ কি পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।