১৯৯০ ব্যাচের আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার এই নিয়ে একটি মামলা করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই শুনানি হয়।

রাজীব কুমার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 23 January 2026 21:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য পুলিশের পরবর্তী ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (DGP) অর্থাৎ নিয়োগ ঘিরে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন মাঝে কড়া বার্তা দেয় দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (CAT)। ক্যাটের নির্দেশ মেনেই শুক্রবারের মধ্যে ডিজিপি এমপ্যানেলমেন্ট সংক্রান্ত প্রস্তাব ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (UPSC) কাছে পাঠাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government)। নবান্ন সূত্রে খবর, ইউপিএসসি-র নিয়ম মেনেই ১০ জন সিনিয়র আইপিএস অফিসারের নাম পাঠানো হয়েছে প্যানেলে। ২৩ জানুয়ারি ছিল সেই প্রস্তাব পাঠানোর শেষ দিন।
১৯৯০ ব্যাচের আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার (Rajesh Kumar) এই নিয়ে একটি মামলা করে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই শুনানি হয়। ট্রাইবুনাল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রশাসনিক দেরি বা গাফিলতির জেরে কোনও যোগ্য অফিসারের ‘বিবেচনার অধিকার’ খর্ব করা যাবে না। একবার এমপ্যানেলমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হলে মাঝপথে নিয়ম বদল বা নতুন ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেওয়াও আইনসঙ্গত নয় বলে পর্যবেক্ষণ ক্যাটের।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ডিজিপি পদ নিয়ে চাপানউতর শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রকাশ সিংহ বনাম কেন্দ্র মামলার নির্দেশিকা অনুযায়ী, এমন ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে অন্তত তিন মাস আগেই ইউপিএসসি-র কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রায় দেড় বছর পরে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই ইউপিএসসি-কে প্রস্তাব পাঠায়। এই দেরি নিয়েই শুরু হয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক।
অভিযোগ ওঠে, প্রস্তাব পাওয়ার পরেও ইউপিএসসি দীর্ঘদিন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। শেষমেশ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর কমিশন রাজ্যের প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়ে জানায়, এত দেরিতে প্রস্তাব পাঠানোর আগে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। এই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে ক্যাটের দ্বারস্থ হন রাজেশ কুমার।
শুনানিতে ক্যাট জানায়, রাজ্য যে দেরি করেছে তার দায় ইউপিএসসি-র নয়, কিন্তু তার ফল কোনও অফিসারকে ভোগ করতে বাধ্য করা যাবে না। আদালত অবমাননার আশঙ্কার যে যুক্তি ইউপিএসসি তুলেছে, তাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে ট্রাইবুনাল। অন্তর্বর্তী নির্দেশে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ক্যাট জানায়, ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব পাঠাতে হবে, ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ইউপিএসসিকে এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির বৈঠক ডেকে তিনজন সিনিয়র আইপিএস অফিসারের প্যানেল তৈরি করতে হবে এবং ২৯ জানুয়ারির মধ্যে সেই প্যানেল রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে।
এই আবহেই নজরে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি রাজীব কুমার (Rajiv Kumar)-এর কর্মজীবনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ জানুয়ারি। হাতে সময় মাত্র ১০ দিন। তার আগেই ২৯ জানুয়ারি লক্ষ্মীবারে তাঁর বিদায়ী অনুষ্ঠানের দিন ঠিক করে ফেলেছে রাজ্য পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কলকাতার বডিগার্ড লাইন্সে সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ক্যাটের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার যদি প্রস্তাব পাঠিয়ে থাকে, তবে রাজীব কুমারের নামও সেই প্যানেলে থাকতে পারে বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা। এখন দেখার, ইউপিএসসি-র চূড়ান্ত প্যানেল থেকে রাজ্যের পরবর্তী ডিজি হিসেবে শেষ পর্যন্ত কার নাম বেছে নেয় নবান্ন।
এই রায় শুধু একজন অফিসারের ভবিষ্যৎ নয়, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষপদে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা নিয়েও বড় বার্তা দিল বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১১ মার্চ ২০২৬।