২৯ জানুয়ারি, লক্ষ্মীবারে তাঁর বিদায়ী অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার কলকাতার বডিগার্ড লাইন্সে সকাল ৯টায় রাজীবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজীব কুমার
শেষ আপডেট: 22 January 2026 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালকে অর্থাৎ শুক্রবারের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ডিজি (DG Police) নিয়োগ নিয়ে ইউপিএসসি-কে (UPSC) প্রস্তাব পাঠাতে হবে রাজ্যকে। ক্যাটের প্রস্তাব যদি মেনে নেয় রাজ্য সরকার, তবে রাজীব কুমারের (DG Rajiv Kumar) নামও পাঠাতে হবে ইউপিএসসি-কে। অপেক্ষা না করে সেই রাজীবের বিদায়ী অনুষ্ঠান (farewell) ঠিক করে ফেলল রাজ্য।
এখানে বলে রাখা ভাল, রাজ্যের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি-র (DGP) কর্মজীবনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ জানুয়ারি। অর্থাৎ মোটে ১০ দিন সময় রয়েছে তাঁর। হয়তো সে কথা ভেবেই ২৯ জানুয়ারি, লক্ষ্মীবারে তাঁর বিদায়ী অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার কলকাতার বডিগার্ড লাইন্সে সকাল ৯টায় রাজীবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাজ্যে ডিজিপি পদের শূন্যতা তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রকাশ সিংহ বনাম কেন্দ্র মামলার নির্দেশিকা অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারকে অন্তত তিন মাস আগে ইউপিএসসি-র কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রায় দেড় বছর পরে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই ইউপিএসসি-কে প্রস্তাব পাঠায়।
এই বিলম্ব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। বিরোধী নেতাদের একাংশের দাবি, তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে পদে বহাল রাখার উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে প্রস্তাব পাঠাতে দেরি করা হয়েছিল। তাপস রায়ের মতো বিরোধী নেতারা সরাসরি সেই অভিযোগ তোলেন।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের (West Bengal News) প্রস্তাব পাওয়ার পরেও ইউপিএসসি দীর্ঘ সময় কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেই অভিযোগ ওঠে। অবশেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর কমিশন রাজ্যের পাঠানো প্রস্তাব ফেরত পাঠায়। ইউপিএসসি জানায়, এত দীর্ঘ বিলম্বের পরে প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে আগে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
ইউপিএসসি-র এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই ট্রাইবুনালে আবেদন করেন ১৯৯০ ব্যাচের আইপিএস অফিসার (IPS Officer) রাজেশ কুমার (Rajesh Kumar)। রাজ্য সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে থাকা এই অফিসারের আবেদনের শুনানিতে নির্দেশ দেয় দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (CAT)। ক্যাটের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনিক গাফিলতি বা দেরির কারণে কোনও যোগ্য অফিসারের ‘বিবেচনার অধিকার’ কোনওভাবেই খর্ব করা যায় না।
শুনানিতে ক্যাট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও পদের জন্য বিবেচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য হবে। প্রশাসনিক গাফিলতি বা দফতরগত জটিলতার অজুহাতে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পর নিয়মের হঠাৎ বদল বা নতুন ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেওয়াও আইনসম্মত নয় বলে মন্তব্য করে ট্রাইবুনাল।
ট্রাইবুনালের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, এমপ্যানেলমেন্ট একবার শুরু হলে মাঝপথে নীতি পরিবর্তন করার কোনও সুযোগ নেই। রাজ্য সরকারের দেরির দায় ইউপিএসসি-র নয়—এ কথাও মেনে নিয়েছে ট্রাইবুনাল। তবে সেই বিলম্বের খেসারত কোনও ভাবেই অফিসারদের দিতে বাধ্য করা যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে আদালত। এ ছাড়া, আদালত অবমাননার সম্ভাবনার যে যুক্তি ইউপিএসসি তুলে ধরেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানিয়েছে ট্রাইবুনাল।
২৩ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্য সরকারকে ডিজিপি পদের এমপ্যানেলমেন্ট সংক্রান্ত প্রস্তাব ফের ইউপিএসসি-র কাছে পাঠাতে হবে। কিন্তু তার আগে সরকারি ভাবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমারের বিদায়ী অনুষ্ঠানের দিন ঠিক করে ফেলল রাজ্য পুলিশ। এখন দেখার, রাজ্যের পরবর্তী ডিজি হিসেবে কার হাতে দায়িত্ব বর্তায়।