পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) পরবর্তী ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (DGP) নিয়োগ ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক টানাপোড়েনে ইতি টানতে কড়া বার্তা দিল দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (CAT)। ট্রাইবুনাল স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ডিজিপি এমপ্যানেলমেন্ট সংক্রান্ত প্রস্তাব ইউপিএসসি-র কাছে পাঠাতে হবে।

শেষ আপডেট: 21 January 2026 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) পরবর্তী ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (DGP) নিয়োগ ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক টানাপোড়েনে ইতি টানতে কড়া বার্তা দিল দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (CAT)। ট্রাইবুনাল স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ডিজিপি এমপ্যানেলমেন্ট সংক্রান্ত প্রস্তাব ইউপিএসসি-র কাছে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকার ও ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC)—দু’পক্ষকেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে ক্যাট।
১৯৯০ ব্যাচের আইপিএস অফিসার তথা রাজ্য সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে থাকা রাজেশ কুমারের আবেদনের শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইবুনাল। ক্যাটের পর্যবেক্ষণ—প্রশাসনিক গাফিলতি বা দেরির কারণে কোনও যোগ্য অফিসারের ‘বিবেচনার অধিকার’ কোনওভাবেই খর্ব করা যায় না।
কী নিয়ে মামলা
ডিজিপি (DGP) পদে শূন্যতা তৈরি হয় ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর। সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশ সিংহ বনাম কেন্দ্র মামলার নির্দেশ অনুযায়ী, এই ধরনের শূন্যতার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে অন্তত তিন মাস আগেই ইউপিএসসি-র কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই প্রস্তাব পাঠায় প্রায় দেড় বছর পরে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই ২০২৫। কেন রাজ্য সরকার এত দেরি করে প্রস্তাব পাঠায় তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। তাপস রায়ের মতো বিরোধী নেতাদের মতে, পেটোয়া অফিসারকে পদে রেখে দিতেই তা করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।
অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সেই প্রস্তাব পাওয়ার পরেও ইউপিএসসি দীর্ঘদিন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। শেষ পর্যন্ত গত বছর ৩১ ডিসেম্বর তারা রাজ্য সরকারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় এবং জানায়—এত দেরিতে প্রস্তাব পাঠানোর আগে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন রাজেশ কুমার।
ট্রাইবুনালের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
শুনানিতে ট্রাইবুনাল জানিয়েছে, কোনও পদের জন্য কেউ বিবেচনার যোগ্য হলে সেটা তাঁর মৌলিক অধিকার। কোনও প্রশাসনিক দেরি বা দফতরগত টানাপোড়েনের কারণে সেই অধিকার খর্ব করা যায় না। প্রক্রিয়া চলাকালীন নিয়ম বদলানো চলবে না। একবার এমপ্যানেলমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হলে মাঝপথে নতুন নীতি বা ব্যাখ্যা জারি করা আইনসঙ্গত নয়।
ট্রাইব্যুনাল এও স্পষ্ট করে বলেছে, রাজ্য যে দেরি করেছে তার দায় UPSC-র উপর বর্তায় না, কিন্তু তার ফল ভোগ করবেন না অফিসাররা। ট্রাইবুনাল আরও জানিয়েছে, আদালত অবমাননার ঝুঁকির যে কথা বলছে ইউপিএসসি তাও যুক্তিগ্রাহ্য নয়।
কী নির্দেশ দিল CAT
অন্তর্বর্তী নির্দেশে ট্রাইবুনাল খুব স্পষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তা হল , ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্য সরকারকে ডিজিপি পদের এমপ্যানেলমেন্ট সংক্রান্ত প্রস্তাব ফের UPSC-র কাছে পাঠাতে হবে। ২৮ জানুয়ারির মধ্যে UPSC-কে এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির বৈঠক ডেকে তিনজন সিনিয়র আইপিএস অফিসারের প্যানেল তৈরি করতে হবে। এবং ২৯ জানুয়ারির মধ্যে সেই প্যানেল রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে। সর্বোপরি প্যানেল পাওয়ার পর রাজ্য সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ
এই রায় শুধু একজন অফিসারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষপদে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতার প্রশ্নে বড় বার্তা দিল বলেই মনে করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে যে প্রশাসনিক ঢিলেমি চলতে পারে না, সেটাই ফের মনে করিয়ে দিল কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১১ মার্চ ২০২৬।