তাঁর তোপ, “আজ মুখ্যমন্ত্রী অভিনন্দন জানাচ্ছেন, অথচ কয়েক মাস আগেই তাঁদের দলের এক নেতা রিচার পরিবারকে হুমকি দিয়েছিল। তখন প্রশাসন চুপ ছিল। আজ আবার ওরা সাফল্যের ভাগ নিতে চাইছে!”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 3 November 2025 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার রাতে দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন শিলিগুড়ির মেয়ে রিচা ঘোষ (Richa Ghosh)। মহিলা বিশ্বকাপে ভারতের জয়ে (ICC Women's World Cup 2025) তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। গোটা দেশ যখন উচ্ছ্বাসে মেতেছে, তখনই এক অভিনন্দন বার্তা ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক তরঙ্গ।
রবিবার রাতেই রিচাকে অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee) টুইটারে লিখেছেন, “বাংলার গর্ব রিচা! তোমার সাফল্যে দেশ মুগ্ধ, রাজ্য গর্বিত।” কিন্তু সেই বার্তার পরই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপির শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (BJP MLA Sankar Ghosh)।
তাঁর তোপ, “আজ মুখ্যমন্ত্রী অভিনন্দন জানাচ্ছেন, অথচ কয়েক মাস আগেই তাঁদের দলের এক নেতা রিচার পরিবারকে হুমকি দিয়েছিল। তখন প্রশাসন চুপ ছিল। আজ আবার ওরা সাফল্যের ভাগ নিতে চাইছে!”
শঙ্করের দাবি, রিচার পরিবার জানে তৃণমূলের আচরণ কেমন ছিল। তাঁর কথায়, “এদের পতনের কোনও সংজ্ঞা নেই, তাই রিচার পরিবারের সন্ত্রাসও ভুলে গেছে প্রশাসন।”
ঘটনার সূত্র ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই। রিচার কাকা সুবিমল ঘোষ অভিযোগ জানান স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও ওষুধ ব্যবসায়ী ধীমান বোস-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ধীমান ও তাঁর দোকানের কর্মচারীরা নিয়মিত রাতের বেলা মদ্যপান করতেন, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতেন এবং মহিলাদের উদ্দেশে মন্তব্য করতেন।
রিচার পরিবার নাকি একাধিকবার প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়েও পাননি কোনও সুরাহা। স্থানীয়রা দাবি করেন, ধীমানের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই পুলিশ ছিল নীরব দর্শক। অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। সিপিএম মহিলা সংগঠনের নেত্রী মৌসুমি হাজরা নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল হয় এলাকায়। তাঁদের দাবি ছিল, রিচার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার।
এসবের মধ্যেই বিশ্বকাপের পর রিচার নাম এখন দেশের প্রতিটি ঘরে। কিন্তু সেই আলোতেই ফের সামনে আসছে সেই পুরনো অভিযোগ। রাজনৈতিক তরজায় শিলিগুড়ির আবহ গরম। তৃণমূল অবশ্য বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলছে, “রিচার সাফল্য নিয়ে রাজনীতি করা লজ্জাজনক। মুখ্যমন্ত্রীর অভিনন্দন বাংলার গর্বের প্রতি শ্রদ্ধার।”