দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর আবার পুরনো দলে শোভন। এককালে মমতার অন্যতম ভরসার সহযোদ্ধা ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে মেয়র পদ ও মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দূরে সরে গিয়েছিলেন তৃণমূল থেকে। পরে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। কিন্তু, সেই সম্পর্ক টিকেছিল অল্পদিনই।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 3 November 2025 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে যা হওয়ার ছিল, তাই হল। দীর্ঘ সাত বছর পর তৃণমূলের (TMC) পতাকা হাতে ঘরে ফিরলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় (Shovan Chataterjee)। তাঁর সঙ্গে ফিরলেন সঙ্গিনী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Baishakhi Banerjee)। এদিন দুপুরে তৃণমূল ভবনে উপস্থিত হয়ে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের হাত থেকে জোড়াফুলের পতাকা তুলে নিলেন তাঁরা।
“তৃণমূল আমার কাছে পরিবারের মতো। ঘরে ফিরে ভাল লাগছে।” দলের পতাকা হাতে নিয়ে বললেন শোভন। সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) প্রশংসাও করলেন, “অভিষেক এনকারেজ করেছেন।”
তৃণমূলে শোভনের ঘরে ফেরা কার্যত সময়ের অপেক্ষা ছিল। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁকে নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ)-র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাতে ফেরার আভাস স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সোমবার সেই জল্পনাতেই পড়ল পূর্ণচ্ছেদ। শোভন জানালেন, দল তাঁকে যে দায়িত্ব দেবে, নিজের যথাসাধ্য চেষ্টা দিয়ে তিনি তা করবেন।
দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর আবার পুরনো দলে শোভন। এককালে মমতার অন্যতম ভরসার সহযোদ্ধা ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে মেয়র পদ ও মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দূরে সরে গিয়েছিলেন তৃণমূল থেকে। পরে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। কিন্তু, সেই সম্পর্ক টিকেছিল অল্পদিনই। নানা টানাপোড়েনের পর ফের নিজের পুরনো ‘পরিবারে’ ফিরলেন তিনি।
দলের অন্দরে এখন গুঞ্জন, বেহালা পশ্চিমের বিধানসভা আসনে হয়তো শোভনকেই প্রার্থী করা হতে পারে। কারণ, সেই আসনের বর্তমান বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখনও জেলবন্দি। পার্থ জেলমুক্ত হলেও, তাঁকে যে তৃণমূল আর ভোটে টিকিট দেবে না, তা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। ফলে, বেহালায় শোভনের ঘরে ফেরা যেন নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরেই ঘরে ফেরার পরিপ্রেক্ষিত তৈরি হচ্ছিল। সেপ্টেম্বরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক, পরে দার্জিলিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ, সবই যেন ছিল এই প্রত্যাবর্তনের ভূমিকা। প্রশাসনিক দায়িত্বের পর এদিন শোভনের রাজনৈতিক পুনর্বাসনও সম্পূর্ণ হল।
এদিকে শোভনের স্ত্রী তথা তৃণমূলের বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায় (শোভন-রত্নার বিবাহ বিচ্ছেদ মামলা আদালতে বিচারাধিন) বলেন, "শোভনবাবু বহু সিনিয়র পলিটিশিয়ন, উনি তৃণমূলে ফিরেছেন, এ নিয়ে আমার কী বা বলার আছে!"
তৃণমূলের অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন, প্রশাসনে দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন, এবার কি ভোটের ময়দানে ফিরবেন শোভন চট্টোপাধ্যায়?