সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য, খোদ একবালপুর থানার ভবনটাই এখন আলিপুর থানার এলাকায়! অর্থাৎ, একবালপুর থানার গেটের সামনেই যদি কোনও অপরাধ ঘটে, তার তদন্তের দায়িত্ব যাবে আলিপুর থানার হাতে!

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 3 November 2025 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরপর দুই রহস্যজনক ঘটনা,একদিকে পার্ক স্ট্রিটের হোটেলে নৃশংস খুন, অন্যদিকে আলিপুরে নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু। শহরের এই দুই আলোচিত ঘটনার পরই তৎপর লালবাজার। একাধিক থানা এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশ ( (Major surgery on Kolkata Police map)।
পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মার নির্দেশে আলিপুর ও পার্ক স্ট্রিট থানার সীমানা বাড়ানো হয়েছে (Alipore-Park Street boundary changed)।
সূত্রের খবর, নিউ মার্কেট, একবালপুর ও ওয়াটগঞ্জ থানার বেশ কিছু অংশ এখন থেকে যথাক্রমে পার্ক স্ট্রিট ও আলিপুর থানার আওতায় আসছে। নতুন মানচিত্রও প্রকাশ করেছে লালবাজার।
এতদিন পর্যন্ত ভারতীয় জাদুঘর ছিল নিউ মার্কেট থানার অধীনে। সদর স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, কুই লেন—সবই নিউ মার্কেট থানা এলাকার অংশ ছিল। কিন্তু পুলিশের মূল্যায়ন, এই সব এলাকাই আসলে পার্ক স্ট্রিট থানা থেকে অনেকটা ‘অ্যাক্সেসিবল’। ধর্মতলা ও লেনিন সরণি সংলগ্ন এলাকায় সারাবছরই নিউ মার্কেট থানার বিশাল ফোর্স ব্যস্ত থাকে আইনশৃঙ্খলা সামলাতে। ফলে জাদুঘর বা সদর স্ট্রিটে নজরদারি কিছুটা ফাঁক থেকেই যাচ্ছিল বলে মত লালবাজারের।
এই প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি ক্রাইম মিটিংয়ে পার্ক স্ট্রিট থানাকে আরও ‘অ্যাকটিভ জোন’ বানানোর নির্দেশ দেন সিপি। এরপরই যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদের বিজ্ঞপ্তিতে নিউ মার্কেট থানার প্রায় ৬০০ বর্গ মিটার এলাকা পার্ক স্ট্রিট থানার অধীনে আনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অন্যদিকে, আরও বড় বদল এসেছে আলিপুর থানার মানচিত্রে। চিড়িয়াখানার সামনের আলিপুর রোড পর্যন্ত ছিল আলিপুর থানা। কিন্তু চিড়িয়াখানার ভিতরের অংশ পড়ত ওয়াটগঞ্জ থানার আওতায়। এখন সেই অংশও আলিপুর থানার অধীনে। সঙ্গে জিরাট ব্রিজ, খিদিরপুর বাজার, মনসাতলা লেন, একবালপুর রোড—সবই এখন থেকে আলিপুর থানার অন্তর্গত।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য, খোদ একবালপুর থানার ভবনটাই এখন আলিপুর থানার এলাকায়! অর্থাৎ, একবালপুর থানার গেটের সামনেই যদি কোনও অপরাধ ঘটে, তার তদন্তের দায়িত্ব যাবে আলিপুর থানার হাতে!
পুলিশের একাংশ বলছেন, “নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পুনর্বিন্যাস।” তবে শহরের এক থানার বিল্ডিং অন্য থানার আওতায় পড়া নিয়ে জোর আলোচনা শহরবাসীর মধ্যে। যদিও এ ব্যাপারে পুলিশ কর্তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।